মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে সংলাপ ও কূটনীতির ওপর জোর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন।
শুক্রবার নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন মোদি। দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এটি দুই নেতার দ্বিতীয় দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। এর আগে গত ৩১ আগস্ট কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) বৈঠকের ফাঁকে তাদের সাক্ষাৎ হয়েছিল।
বৈঠকে মোদি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত সমুদ্রপথে জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে সরবরাহবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ভারত।
পেজেশকিয়ানের ভারত সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে সর্বোচ্চ চাপের অভিযান শুরু করেছে। এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালির অবরোধসহ বিভিন্ন সংকটের প্রভাব পড়ছে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহে।
ব্রিকস সম্মেলনের আগে পেজেশকিয়ান বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় জোটটির অর্থনৈতিক সক্ষমতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। ব্রিকসের নতুন উন্নয়ন ব্যাংককে তিনি ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং মার্কিন আধিপত্যের বিরুদ্ধে বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেন।
শুক্রবার ব্রিকস বিজনেস ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, বিশ্ব এখন জটিল সময় ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যে নিজস্ব মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ ও নিষেধাজ্ঞা বৈধ বাণিজ্যে বাধা তৈরি করছে। কোনো একটি দেশ যেন আর্থিক ব্যবস্থার ওপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে অন্য দেশের বৈধ বাণিজ্য ব্যাহত করতে না পারে, সে জন্য ব্রিকসকে কার্যকর পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান তিনি।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারত ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সভ্যতাগত সম্পর্ক রয়েছে। সংস্কৃতি ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগের পাশাপাশি ব্রিকসের অংশীদার হিসেবে দুই দেশ অভিন্ন অগ্রগতি ও সমৃদ্ধিতে অবদান রাখছে।
এর আগে ৩১ আগস্ট বিশকেকে মোদির সঙ্গে বৈঠকে পেজেশকিয়ান ভারতের বিস্তৃত কূটনৈতিক সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে সংঘাতরত পক্ষগুলোকে সহিংসতা থেকে দূরে সরিয়ে আলোচনায় ফেরাতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন। মোদিও সে সময় সংঘাত অবসানে সব ধরনের প্রচেষ্টার প্রতি ভারতের সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন।
নয়াদিল্লিতে এবারের ব্রিকস সম্মেলন এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের বাধা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও শুল্কনীতির প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতি চাপের মুখে রয়েছে।
সূত্র : এনডিটিভি
সময়ের আলো/কেএইচ