ফুটপাথ দখলে মানুষ সড়কে

সমীরণ রায়

জাতীয়

‘প্রায় প্রতিদিনই আমাকে ফুটপাথ দিয়ে হাঁটতে হয়। কিন্তু এই হাঁটায় স্বস্তির চেয়ে বিড়ম্বনাই বেশি। ফুটপাথগুলো এখন আর পথচারীদের চলাচলের জায়গা

2026-09-13T01:04:18+00:00
2026-09-13T01:04:18+00:00
 
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয়
ফুটপাথ দখলে মানুষ সড়কে
সমীরণ রায়
প্রকাশ: রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০৪ এএম 
ছবি : সময়ের আলো
‘প্রায় প্রতিদিনই আমাকে ফুটপাথ দিয়ে হাঁটতে হয়। কিন্তু এই হাঁটায় স্বস্তির চেয়ে বিড়ম্বনাই বেশি। ফুটপাথগুলো এখন আর পথচারীদের চলাচলের জায়গা নয়; হকার ও দোকানিদের দখলে, সেগুলো কেনাবেচার স্থায়ী বাজারে পরিণত হয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে মূল সড়কে নেমে হাঁটতে হয়, যা একদিকে ভোগান্তি বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি করছে।’ এ অভিজ্ঞতা রাজধানীর মৌচাকসংলগ্ন ফুটপাথের পথচারী রায়হানুল ইসলামের।

মানুষ রাজধানী ঢাকার ফুটপাথে শান্তিতে ও স্বস্তিতে হাঁটবে— এমনটাই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এ ফুটপাথের অশান্তিই যেমন এখন নগরবাসীর নিয়তি। কারণ পথচারীদের হাঁটার জন্য ফুটপাথ থাকলেও তা এখন হকারদের দখলে।

ভুক্তভোগী পথচারী রায়হানুল ইসলাম আরও বলেন, ‘সবচেয়ে দুঃখজনক হলো, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দেখেও দেখে না, শুনেও শোনে না। জনমনে প্রশ্ন আছে, এই দখলদারির পেছনে সংশ্লিষ্টদের একাংশের নীরব চাঁদাবাজি রয়েছে কি না। 

প্রতিবাদ করতে গেলেও দখলদারদের মারমুখী আচরণের শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সাধারণ মানুষ অনেকটা বাধ্য হয়েই সব সহ্য করছে। কিন্তু পথচারীদের এই দুর্ভোগ আর কতদিন? ফুটপাথ কি দখলদারদের জন্য, নাকি সাধারণ মানুষের হাঁটার জন্য? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত অবিলম্বে ফুটপাথ দখলমুক্ত করে পথচারীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা।’

এদিকে ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) কয়েক দফায় উদ্যোগ নিলেও তার কার্যকর হয়নি। এমনকি ফুটপাথের শৃঙ্খলা আনতে হকারদের নিবন্ধন ও ডিজিটাল হকার কার্ড দিলেও তা কোনো কাজ হয়নি। বরং ফুটপাথ উদ্ধার করতে গিয়ে জটিলতায় পড়েছে সংস্থা দুটি। 

মূলত রাজধানীবাসীর হাঁটার ফুটপাথে শৃঙ্খলা আনতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি।
রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যৌথ উদ্যোগে গত ১ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ দিন ফুটপাথ ও সড়কে হকার উচ্ছেদ অভিযানে পরিচালনা করে ডিএমপি ও ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। 

তবে উচ্ছেদ অভিযানের এক দিন পর থেকেই আবার হকারদের দখলে চলে যায় ফুটপাথগুলো। পরে ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি হকার কার্ড দেওয়ার ঘোষণা দেয়। এতে হকাররা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তারা হকার নিবন্ধন বা ডিজিটাল হকার কার্ড পাওয়ার আশায় ফুটপাথসহ মূল সড়কের যত্রতত্র ভ্যানগাড়ি ও চৌকি নিয়ে বসে পড়েন। 

এরপর স্থানীয় নেতাসহ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের কাছে তদবির শুরু করেন। এর প্রেক্ষিতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন গত মে মাসে ৮১৭ হকারকে স্মার্ট কার্ড দিয়ে নির্ধারিত স্থানে বসার অনুমতি দেয়। এর মধ্যে ডিএসসিসি এলাকায় ৮৮৮ জন নিবন্ধিত হকারের মধ্যে ৬১৭ জন এবং ডিএনসিসি এলাকায় ৮২৯ জনের মধ্যে ২০০ জনকে এ কার্ড (ডিজিটাল পরিচয়পত্র) দেওয়া হয়। তাদের জন্য ফুটপাথ ও সড়কে সাদা রঙে দাগ কেটে সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। 

কিন্তু কার্ডধারীরা হকাররা নির্ধারিত স্থানে না বসে আগে যেখানে দোকান নিয়ে বসতেন সেখানেই ভ্যানগাড়ি ও চৌকি সাজিয়ে বসেন। আবার তাদের বেশিরভাগ কার্ডের কথা জানেন না।

কার্ডধারী হকারদের ভাষ্য, ৪-৫ ফুটের দাগ কাটা জায়গায় ব্যবসা চালানো সম্ভব নয়। পূর্বের জায়গায় পুনর্বাসনের দাবিতে অনড় থাকেন তারা।

অন্যদিকে রাজধানীর ফুটপাথ ও সড়ক দখল, যানজট, পথচারীদের চলাচলে বাধা এবং হকারদের অনিয়ন্ত্রিত কার্যক্রম ঠেকাতে মে মাসের শুরুতে ‘ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৬’ করে সরকার। স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে করা নীতিমালায় প্রথমবারের মতো হকারদের নিবন্ধন, নির্ধারিত স্থানে ব্যবসা, হলিডে ও নৈশকালীন মার্কেট, লাইসেন্স ফি এবং প্রশাসনিক তদারকির বিস্তারিত কাঠামো নির্ধারণ করা হয়। ফুটপাথ হকারমুক্ত করতে এবং হকারদের পুনর্বাসনে রাজধানীতে ৮টি নৈশ মার্কেট চালুর পরিকল্পনা করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

সম্প্রতি রাজধানীর নগর ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, শুধু হুট করে হকার উচ্ছেদ করার পক্ষে নন প্রধানমন্ত্রী। তাই তাদের একটা বিকল্প ব্যবস্থা করার জন্য রাজধানীতে আমরা ৮টি নৈশ মার্কেট করার চিন্তা করছি। অর্থাৎ অফিস আওয়ারের পর রাত ১২টা পর্যন্ত যেন সেখানে কেনাবেচার সুযোগ থাকে।

হকারদের দাবি, স্মার্ট কার্ড বিতরণের উদ্যোগ ছিল লোকদেখানো। বাস্তবে এর কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। আরও ৯০০ নিবন্ধিত এবং নতুন হকারকে কার্ড দেওয়ার কথা থাকলেও সেই কার্যক্রমও হাইকোর্টে রিটের কারণে আটকে গেছে। হকার পুনর্বাসনে প্রথমবারের মতো করা নীতিমালা চ্যালেঞ্জ করে গত মে মাসে রিটটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. শোয়েবুজ্জামান। এরপর আদালত রুল জারি করলে স্মার্ট কার্ড বিতরণ স্থগিত ও পুনর্বাসন কার্যক্রম থেকে সরে আসে ডিএসসিসি ও ডিএনসিসি।

দুই সিটি করপোরেশনই বলছে, হকারদের একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্যে পরিচয়পত্র বা হকার কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল, কে কোথায় ব্যবসা করবেন, কোন সময়ে করবেন এবং কতজন বৈধ হকার থাকবেন, তা নির্ধারণ করা। কিন্তু বাস্তবে সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হয়নি। কার্ড বিতরণ হলেও নির্দিষ্ট স্থান নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে কার্ডধারীরা যেমন যেখানে সুযোগ পাচ্ছেন সেখানে বসছেন, তেমনি নতুন করে আরও অসংখ্য কার্ডবিহীন হকারও ফুটপাথ দখল করছেন।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, রাজধানীর সবচেয়ে ব্যস্ততম এলাকা গুলিস্তান আবারও হকারদের দখলে। তারা এখন শুধু ফুটপাথই নয়, রাস্তায়ও বসে পড়ছেন। এমন চিত্র শুধু গুলিস্তান নয়, রাজধানীর মতিঝিল, বায়তুল মোকাররম, পল্টন, নিউমার্কেট, ফার্মগেট, মিরপুর-১, মিরপুর-১০, মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, বাড্ডা, মালিবাগ, খিলগাঁও, পান্থপথ, কারওয়ান বাজার, আগারগাঁওয়ের পাসপোর্ট অফিস, গুলশানসহ সবখানেই।

আর কেবল ফুটপাথ নয়, রাস্তার বড় অংশজুড়েও বিভিন্ন পণ্যের পসরা নিয়ে বসছে দোকানিরা। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য থেকে শুরু করে হরেক রকম পণ্য সাজানো থাকে দোকানগুলোতে।

রাজধানী গুলিস্তান ফ্লাইওভারের নিচে জিন্সের প্যান্ট ও টি-শার্টের ব্যবসা করেন শুক্কুর আলী। তিনি ফুটপাথ ছেড়ে রাস্তায় চৌকি বসিয়ে ব্যবসা করছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ১০ বছর এখানে ব্যবসা করি। গত মে মাসে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। কিন্তু পরে ফের বসেছি। আবারও উচ্ছেদ করা হয়েছিল। তারপরও বসেছি। আমার কোনো হকার কার্ড নেই।’ আরেকজন বলেন, ‘একজন বলছিল, কার্ড করে দেবে। কিন্তু পরে আর আসেনি।’

গুলিস্তানের হকার মো. ইব্রাহিম খান ডিজিটাল পরিচয়পত্র পেয়েছেন। ডিএসসিসির দাগ দেওয়া জায়গায় তার জুতার দোকান বসানোর কথা। কিন্তু সেখানে বসছেন না। পণ্যের পসরা সাজিয়েছেন অন্যখানে। তিনি বলেন, ‘আমি এখানে দীর্ঘদিন ব্যবসা করি, তাই এখানেই বসেছি।’

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, কেবল পরিচয়পত্র দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কারণ মূল সমস্যা হলো কার্যকর তদারকির অভাব, রাজনৈতিক প্রভাব এবং অবৈধ চাঁদাবাজি। জীবিকা ও জনস্বার্থ— দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া যেমন উচ্ছেদ টেকসই নয়, তেমনি ফুটপাথ দখলও কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ঢাকার ফুটপাথ ব্যবস্থাপনায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো নির্দিষ্ট হকার জোন, সময়ভিত্তিক ব্যবসা, ডিজিটাল নিবন্ধন এবং কঠোর তদারকির মতো সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আর চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি পুনর্বাসনের জন্য নির্ধারিত হকার মার্কেট বা বিকল্প বাণিজ্যিক স্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।


নগরবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, হকার পুনর্বাসন ও দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্য থাকলে বিকল্প ও বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা নিতে হবে। রাস্তা ও ফুটপাথ তৈরি হয় জনসাধারণের জন্য। সেখানে স্মার্ট কার্ড দিয়ে ও নীতিমালা প্রকাশ করে হকার বসানোর বৈধতা দেওয়াটা ভুল সিদ্ধান্ত। আর সীমিত কয়েকটি স্থান ছাড়া ঢাকায় এভাবে হকার বসানোর মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। এ ছাড়া কার্ডধারীরা নির্ধারিত স্থানে না বসার পেছনে সুবিধাভোগী সিন্ডিকেটের হাত রয়েছে।

বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াৎ বলেন, রাজধানীর শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন হকার উচ্ছেদ ও পুনর্বাসনের প্রশ্নে তাদের উদ্যোগ সমালোচনার মুখে পড়েছে। যদিও নগরবাসীর হাঁটার জন্য অবশ্যই ফুটপাথ থাকতে হবে। কিন্তু পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ ঠিক নয়। সঠিক তালিকা প্রণয়ন না করা, সমন্বয়হীনতা এবং বাস্তবতার সঙ্গে মিল না রেখে পরিকল্পনা করায় জটিলতা আরও বেড়েছে। প্রথমেই জানতে হবে কারা প্রকৃত হকার। 

তাদের সংখ্যা কত। এটি না হলে অন্ধকারে ঢিল ছোড়ার মতো হবে। বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করেই ফুটপাথ থেকে হকারদের উচ্ছেদ করা উচিত। সিটি করপোরেশন, পুলিশ প্রশাসন, ট্রাফিক বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যেও সমন্বয়ের অভাব রয়েছে।

ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত ওসমান বলেন, নির্দেশ পেয়ে আমাদের বিভাগ হকার স্মার্ট কার্ড বিতরণ করেছে। ভবিষ্যতে আরও করা হবে। এর বাইরে কিছু বলার নেই।

ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত হকারের মোট সংখ্যা ৮২৯ জন। যদিও হাইকোর্টে একটি রিটের কারণে হকার কার্ড দেওয়া আপাতত বন্ধ রয়েছে। বাকি হকারদেরও পর্যায়ক্রমে পরিচয়পত্র দিয়ে নির্ধারিত স্থানে স্থানান্তর করা হবে। তবে হকারদের স্থায়ী কোনো কাঠামো নির্মাণ না করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি হকারদের জন্য মার্কেট নির্মাণের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, পথচারী ও যান চলাচল নির্বিঘ্ন রেখেই হকার পুনর্বাসন করা হচ্ছে। আমরা পথচারী ও যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা নিশ্চিত করেই হকারদের সুশৃঙ্খল পুনর্বাসনের কাজ করছি।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/এসএকে
  বিষয়:   ফুটপাথ  দখল  মানুষ  সড়ক  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: