চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার আংশিক ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে একটি নতুন ও পৃথক উপজেলা গঠনের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও সুপারিশসহ একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রস্তাব প্রস্তুত করে স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠাতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এর ফলে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা পরিষদ-১ শাখা থেকে গত ১০ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত চিঠি জারি করা হয়। চিঠিতে জানানো হয়, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জসীম উদ্দীন আহমেদের পাঠানো একটি ডিও (ডেমি-অফিসিয়াল) পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় এই আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে।
মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে নতুন উপজেলা প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ২০০৮ সালের ২৪ অক্টোবর জারি করা পরিপত্রের শর্ত, নীতিমালা ও নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় পরিসংখ্যান, প্রশাসনিক বিশ্লেষণ, ভৌগোলিক তথ্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক উপাত্ত সংযুক্ত করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়েছে।
মূল্যায়নের সময় যেসব বিষয় বিবেচনা করা হবে, সংশ্লিষ্ট এলাকার জনসংখ্যা, আয়তন ও ভৌগোলিক অবস্থান, প্রশাসনিক কার্যকারিতা ও সরকারি সেবার সহজপ্রাপ্যতা যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, স্থানীয় জনগণের প্রয়োজনীয়তা ও বিদ্যমান কাঠামোর ওপর সম্ভাব্য প্রভাব, নতুন উপজেলা সদরের স্থান নির্ধারণ, সরকারি দফতর স্থাপনের উপযোগিতা ও ভূমি প্রাপ্যতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক সম্প্রসারণের সম্ভাবনা।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতকৃত প্রস্তাবটি বিভাগীয় কমিশনারের সুপারিশসহ স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে। এরপর মন্ত্রণালয় নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী তা যাচাই-বাছাই করবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মতামত গ্রহণ, মাঠপর্যায়ের তদন্ত এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যালোচনার পর বিষয়টি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য উত্থাপন করা হবে। চিঠির অনুলিপি সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য, স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক ও উপপরিচালক, সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং অন্যান্য দফতরে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, প্রস্তাবিত নতুন উপজেলা বাস্তবায়িত হলে প্রশাসনিক সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে। বিশেষ করে দূরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের উপজেলা সদরে যাতায়াতের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও ভূমি ব্যবস্থাপনার মতো সরকারি সেবাগুলো আরও সহজলভ্য হবে। তবে এই উদ্যোগ পুরোপুরি বাস্তবায়িত হওয়ার আগে প্রশাসনিক ও আর্থিক সক্ষমতা, স্থানীয় জনমত এবং সরকারের নীতিগত অনুমোদনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বর্তমানে জেলা প্রশাসনের সুপারিশসহ পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব তৈরির কাজ চলছে।
সময়ের আলো/জোই