ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা সংকট ও প্রয়োজনীয় পানির গভীরতা ফিরে এলেও কুড়িগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ চিলমারী-রৌমারী নৌপথে ফেরি চলাচল এখনো বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এই রুটে যাতায়াতকারী যাত্রী, পণ্যবাহী যানবাহনের চালক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। নৌপথ প্রস্তুত থাকলেও ফেরির দেখা মিলছে না।
তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ আগস্ট নাব্যতা সংকটের কারণে এ রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর নৌপথ সচল করতে গত ২৫ জুলাই থেকে ড্রেজিং কাজ শুরু করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। সিইজিআইএসের পরামর্শে চারটি কাটার সাকশন ড্রেজার দিয়ে খননকাজ চালিয়ে চ্যানেলটিতে প্রয়োজনীয় গভীরতা ফিরিয়ে আনা হয়েছে। পলি জমে যেন ফের সংকট তৈরি না হয়, সে জন্য বর্তমানে সংরক্ষণমূলক ড্রেজিংও চলমান রয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার কামরুজ্জামান জানান, বর্তমানে ফেরি চলাচলে কোনো ধরনের প্রাকৃতিক বাধা নেই।
চ্যানেল প্রস্তুত হওয়ার পর গত ১০ সেপ্টেম্বর বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) সমীর চন্দ্র পাল স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বিআইডব্লিউটিসির চিলমারী নদীবন্দরের এরিয়া ইনচার্জের কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে দ্রুত নিয়মিত ফেরি চলাচল নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হলেও বাস্তবে মিলছে না কোনো সুফল। সর্বশেষ সচল থাকা ‘কদম’ নামের ফেরিটি গত ২ সেপ্টেম্বর মেরামতের জন্য নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়। ফলে বর্তমানে পুরো নৌপথটি পুরোপুরি ফেরিশূন্য হয়ে পড়েছে। ঘাটে এসে গাড়ি পারাপার করতে না পেরে বাধ্য হয়ে দীর্ঘ বিকল্প পথে ঘুরে গন্তব্যে ফিরে যাচ্ছেন চালকরা।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ‘কুঞ্জলতা’ ফেরি চালুর মধ্য দিয়ে এই রুটে ফেরি সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছিল। পরবর্তীতে আরও দুটি ফেরি যুক্ত হলেও সময়ের ব্যবধানে সেগুলোকে সরিয়ে নেওয়ায় তিন বছর পূর্তির আগেই রুটটি ফের আগের অবস্থায় ফিরে গেছে।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির চিলমারী নদীবন্দরের ম্যানেজার (বাণিজ্য) আতিক সোহেল আকাশ জানান, খনন কাজ শেষ হওয়ার পর মেরিন অফিসার ও পাইলট বিভাগ পানির গভীরতা পর্যবেক্ষণ করে ইতিবাচক প্রতিবেদন দিয়েছেন এবং উচ্চ মহলে ফেরি পাঠানোর জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামান জানিয়েছেন, তারা নাব্যতার বিষয়টি জানতে পেরেছেন, তবে ফেরি পাঠানোর বিষয়ে এখনই সুনির্দিষ্ট কিছু বলতে পারছেন না।
সময়ের আলো/জোই