গণতন্ত্রের মূল্যবোধ, মানবাধিকার, আইনের শাসন ও জনগণের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে আজ ১৫ সেপ্টেম্বর পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস। ২০০৭ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ১৫ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ২০০৮ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
দিনটি উপলক্ষে এক বাণীতে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে আমরা বিভিন্ন দেশে বিদ্যমান গণতন্ত্রের প্রতিশ্রুতিকে সাধুবাদ জানাই। দিবসটি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতারা।
আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও স্থায়ী রূপ দিতে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ধারাবাহিকতা, আইনের শাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার ও সর্বজনীন শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে তিনি বলেন, গণতন্ত্র মানুষের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা সুরক্ষিত করে এবং স্বৈরশক্তির উত্থান ঠেকায়। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।
রিজভী বলেন, দীর্ঘ সময় বাংলাদেশে নাগরিক স্বাধীনতা, ভোটাধিকার ও মানবাধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সবাইকে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, নারী-পুরুষসহ সব মানুষের সমান অংশগ্রহণ ও অধিকার নিশ্চিত করাই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম শর্ত।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণতন্ত্র শুধু সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নয়; এটি মানুষের মৌলিক অধিকার, বাক-স্বাধীনতা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রধান ভিত্তি।
রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, গণতন্ত্র সুরক্ষিত থাকলে সমাজ স্বৈরাচার, শোষণ ও বৈষম্য থেকে মুক্ত হয়ে অগ্রগতির পথে এগিয়ে যেতে পারে। দীর্ঘদিন জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার নানাভাবে হরণ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি করেছে।
জামায়াত আমির বলেন, জুলাই বিপ্লব ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। বৈষম্যমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে ইনসাফ, সততা ও মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ জন্য সমতা, আইনের শাসন, নাগরিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/টিকে