বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমেনা (৭) নামের সাত মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। স্বজনদের দাবি, হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের চরম অবহেলা, খামখেয়ালিপনা এবং দায়িত্বে গাফিলতির কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের বর্তা গ্রামের মহিন্দ্রাচালক মিলন তালুকদারের শিশুকন্যা আমেনাকে ফুড পয়জনিংজনিত সমস্যা নিয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে চেয়েছিলেন।
স্বজনদের অভিযোগ, শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ছাড়পত্র (রিলিজ) দেয়নি। বাধ্য হয়ে তাকে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই রেখে চিকিৎসা করাতে হয়।
পরিবারের দাবি, গত ১৩ সেপ্টেম্বর (রোববার) রাতে শিশুটির শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে কর্তব্যরত নার্সদের জানানো হলেও তারা কোনো গুরুত্ব দেননি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেননি। একপর্যায়ে গভীর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই মারা যায় শিশু আমেনা।
শিশুটির বাবা মিলন তালুকদার আক্ষেপ করে বলেন, হাসপাতালে ভর্তি করার পর আমার মেয়েকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। নার্সদের কাছ থেকেও কোনো সহযোগিতা পাইনি। উল্টো রোগীর স্বজনদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়েছে। চিকিৎসকদের অবহেলা ও খামখেয়ালিপনার কারণেই আমার মেয়ের অকাল মৃত্যু হয়েছে।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও নার্সদের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তারা পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চিকিৎসকদের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হামিদা আক্তার মন্তব্য করেন, জন্ম-মৃত্যু আমাদের হাতে নেই।” তবে চিকিৎসক ও নার্সদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের ডেকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
এদিকে শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়িত্বে অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শোকাহত পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল।
সময়ের আলো/জোই