ভোলা-বরিশাল সেতুর মাধ্যমে ভোলাকে সরাসরি মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার দাবিতে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ‘আমরা ভোলাবাসী’ সংগঠন। সংগঠনটির দাবি, সড়ক নির্মাণের বিকল্প হিসেবে সেতু প্রকল্পের প্রকৃত ব্যয় ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সুফল সমানভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার পর সংগঠনটির নেতারা জানান, তিনি বিষয়টি আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন।
সংগঠনটির দাবি, রহমতপুর হিজলা মেহেন্দিগঞ্জ ভোলা পথে মহাসড়ক নির্মাণে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের যে হিসাব সামনে এসেছে, তাতে দীর্ঘ নদী পারাপারের জন্য প্রয়োজনীয় সেতু, ভায়াডাক্ট, নদীশাসন, তীর সংরক্ষণ, অ্যাপ্রোচ ও অন্যান্য অবকাঠামোর পূর্ণ ব্যয় অন্তর্ভুক্ত আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
‘আমরা ভোলাবাসী’র প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ইলিশা মেহেন্দিগঞ্জ ও মেহেন্দিগঞ্জ হিজলা অংশে প্রায় ৯ কিলোমিটার সেতু ও ভায়াডাক্ট প্রয়োজন হতে পারে। এসব নির্মাণসহ পুরো সড়ক প্রকল্পে ব্যয় ১৫ হাজার কোটি টাকা বা তার বেশি হতে পারে বলে সংগঠনটি মনে করছে।
সংগঠনটি আরও বলেছে, ভোলা বরিশাল সেতু নির্মাণে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ থাকলে সরকারের অর্থের চাপ কমতে পারে। সেতু হলে ভোলার কৃষি ও মৎস্যপণ্য দ্রুত দেশের বিভিন্ন বাজারে নেওয়া, শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবা গ্রহণ এবং শিল্প বাণিজ্যে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে।
তাদের মতে, এই সেতু ভবিষ্যতে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, বরিশাল, খুলনা ও যশোরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃআঞ্চলিক যোগাযোগ করিডোর গড়ে তুলতে পারে।
সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে না দেখে স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে প্রকল্পের ব্যয় ও তথ্য যাচাইয়েরও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
সময়ের আলো/এমকে