সাংবাদিকদের আল্টিমেটামের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পাবনা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি রাশেদুল ইসলামকে বদলি করা হয়েছে। এর আগে, রাশেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে পাবনা প্রেসক্লাবের সম্পাদক জহুরুল ইসলামকে ধর্ষণকাণ্ডে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠলে সাংবাদিকরা ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকার অ্যাডিশনাল ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে রংপুর রেঞ্জে বদলি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনস্বার্থে রংপুর রেঞ্জে রাশিদুল ইসলামকে বদলি করা হয়েছে। বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদানের জন্য আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর মধ্যে তাকে ছাড়পত্র গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় ২০ সেপ্টেম্বর তিনি তাৎক্ষণিক অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি নাফিসা নামের এক তরুণী পাবনা প্রেসক্লাবের সম্পাদক জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ধর্ষণের একটি অভিযোগ তোলেন। যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ওই তরুণী পাবনা সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ভিডিওটি ওই তরুণীকে জিম্মি করে পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে ধারণ করা।
জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হয়ে ওই তরুণী ভিডিও বার্তায় ও নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে প্রকাশ্যে স্বীকার করেন যে, সুবর্ণা হালিম নামের এক নারী নেত্রী তাকে জিম্মি করে এই ভিত্তিহীন অভিযোগ করতে বাধ্য করেন। পরবর্তীতে অসাধু চক্রটির সহায়তায় ডিবি কার্যালয়ের অভ্যন্তরেই বাবা-মায়ের সামনে সোহেল রানা বিপ্লব নামের এক ব্যক্তি সেই সাজানো বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করেন। পরে, থানায় দেওয়া মিথ্যা অভিযোগটি লিখিতভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বলেও জানান ওই তরুণী।
তরুণী সংবাদ সম্মেলনের পরে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দায়িত্বশীল দফতরকে ব্যবহার করে সাংবাদিকদের জিম্মি করা ও বানোয়াট নাটক সাজানোর পেছনে ডিবি ওসি রাশিদুল ইসলামের সরাসরি মদদ ছিল- এমন অভিযোগ তুলে তীব্র বিক্ষোভে ফেটে পড়েন পাবনার মূলধারার সাংবাদিকরা।
সবশেষ, পাবনা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে ডিবি ওসি রাশিদুল ইসলামের তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার ও শাস্তির দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। এছাড়া, পাবনা জেলার মূলধারার শতাধিক সংবাদকর্মী একত্রিত হয়ে দ্রুত বিচার ও ওসির অপসারণ চেয়ে পুলিশ সুপার বরাবর আনুষ্ঠানিকভাবে স্মারকলিপি প্রদান করেন। এরপর পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে ওসি রাশিদুল ইসলামকে রংপুর রেঞ্জে বদলির আদেশ জারি করে।
বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করে পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ বলেন, পুলিশ কর্মকর্তা রাশিদুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর সেগুলো যাচাইয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটি কাজ করছে। এরমধ্যে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে তার বদলির আদেশ এসেছে। চিঠিটি আমিও পেয়েছি।
পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান বলেন, আইন লঙ্ঘন করে ডিবি ওসি অন্যায় কাজে প্রশ্রয় ও মদদ দিয়েছেন। এজন্য আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলে দাবি জানিয়েছিলাম। পুলিশ সেই যৌক্তিক দাবি মেনে তাকে বদলি করেছে। এতে পাবনার সাংবাদিক সমাজের পক্ষে পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই। তবে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। এছাড়া ভবিষ্যতে পুলিশের কোনো কর্মকর্তা যেন সাংবাদিকদের সাথে এ ধরনের অন্যায় করার চেষ্টা না করেন।
সময়ের আলো/আতা