দলীয় ক্ষমতা ও পূর্বশত্রুতার জেরে পাবনার সুজানগরে ইসলাম কাজী (৬০) নামে এক কৃষি পণ্য বিক্রেতাকে প্রকাশ্যে গাছের সঙ্গে বেঁধে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। ১২ সেপ্টেম্বর (শনিবার) বিকেলে উপজেলার দুলাই ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের বিএনপির সভাপতি বাবু শেখসহ তার তিন ছেলে চাঁদু শেখ, মুরাদ শেখ ও আয়ুব শেখ এক হয়ে এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে।
আহত ইসলাম কাজী ও বাবু শেখ দুজনই একই গ্রামের বাসিন্দা ও প্রতিবেশী বলে জানা গেছে। তবে রাজনৈতিকভাবে তারা দুটি দলের সমর্থক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইসলাম কাজীর জমির উপরে বাবু শেখ ও তার ছেলেরা ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করে আসছিলেন। এই বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এরই জের ধরে বাবু শেখ ও তার ছেলেরা ইসলাম কাজীকে একা পেয়ে দেশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।
পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা ও গ্রামবাসী তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসে। তার দুই হাত দুই পাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক জখমের চিহ্ন রয়েছে বলেও জানা গেছে।
ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগীর ছেলে আব্দুল জলিল কাজী বলেন, এটা ক্ষমতার দাপট দেখানো। তারা বিএনপি করে আমাদেরকে তারা নানাভাবে হরানি করছে। ওই জমি তাদের না রাস্তা দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। আমার বাবা একজন সাধারণ মানুষ। কৃষি পণ্য বিক্রি করে সংসার চলে আমাদের। শনিবার দুপুরে আমার বাবা বাড়িতে ফেরার পথে তাকে আটকে গাছের সঙ্গে বেঁধে চরমভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে ওরা।
কার কাছে বিচার চাইবো, বলেন। বাবার খারাপ অবস্থা দেখে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। পুলিশকে জানানোর সময় পাইনি। পাবনা সদর হাসপাতাল থেকে রেফার করে দিয়েছে। ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যেতে হচ্ছে এখন। দুই হাত, দুই পাসহ বুকের হাড্ডি ভেঙে দিয়েছে জানিয়ে ঘটনার সঠিক বিচারও দাবি করেন ভুক্তভোগীর ছেলে।
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত বাবু শেখের ছেলে চাদু শেখ বলেন এই ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট কথা বলেছে তারা।
ঘটনার বিষয়ে সুজানগর থানার ওসি মো. নাজবুর রহমান বলেন, এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। বিষয়টি নিয়ে আমরা খোঁজ খবর করছি। অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সময়ের আলো/আতা