বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ১৪ মাসের বেশি সময় পর আবারও মার্কিন ডলার বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাজারে বাড়তি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ উদ্যোগ নিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, সোমবার ছয়টি ব্যাংকের কাছে মোট ১১ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার আন্তব্যাংক বাজারে প্রতি ডলারের গড় বিনিময় হার দাঁড়িয়েছে ১২৩ টাকা ৩৫ পয়সা। আগের দিন এই হার ছিল ১২৩ টাকা ২০ পয়সা।
এদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশের আমদানি ব্যয় বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় জুলাইয়ে আমদানি ব্যয় ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৬ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
আমদানি ব্যয় বাড়ার অন্যতম কারণ জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি। জুলাইয়ে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ১ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।
অন্যদিকে, জুলাইয়ে দেশের রপ্তানি আয় কিছুটা কমেছে। এ সময়ে রপ্তানি আয় ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৪ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।
সাম্প্রতিক ডলার বিক্রির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিতে কিছুটা পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। গত ১৪ মাসে বাজার থেকে প্রায় ৬০০ কোটি ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
দেশে ডলারের সরবরাহ বাড়া এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের ওপর চাপ কমে আসায় ২০২৫ সালের জুলাই থেকে বাজার থেকে ডলার কেনা শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই সময়ে বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়িয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ পদ্ধতিতে ১০ সেপ্টেম্বর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার।
গত বছরের একই সময়ে দেশের রিজার্ভ ছিল ২৫ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে।
সময়ের আলো/এসএকে