মালয়েশিয়ায় কাজ করার সময় মাটিচাপায় শরিফুল ফকির (৩৫) নামে গোপালগঞ্জের এক প্রবাসী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে আটটায় মালয়েশিয়ায় ড্রেন নির্মাণের কাজ করার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শরিফুল গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের বর্ণি গ্রামের নজরুল ফকিরের সেজো ছেলে।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, ড্রেন নির্মাণের জন্য মাটি কেটে দুই পাশে রাখা হয়েছিল। শরিফুল কাজের জন্য ড্রেনের ভেতরে নামলে ওপর থেকে স্তূপীকৃত মাটি তার ওপর ধসে পড়ে। সহকর্মীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও পথেই তার মৃত্যু হয়।
শরিফুলের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছানোর পর থেকেই পরিবার ও পুরো এলাকায় শোকের মাতম চলছে। একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় বাবা নজরুল ফকির আহাজারি করে বলেন, আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিল শরিফুল। তার পাঠানো টাকা দিয়েই সংসার চলত। সরকারের কাছে একটাই দাবি, আমার ছেলেকে একটু দ্রুত দেশে এনে দিন, শেষবারের মতো মুখটা একটু দেখতে চাই।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহত শরিফুলের মা নাসি বেগম বলেন, শরিফুল দেশে এসে পরিবারের সবার সাথে কোরবানি ঈদ করার নিয়ত করেছিল। ভেবেছিলাম ছেলে দেশে আসলে বিয়ে দেবো, সে জন্য ঘর সাজানো-গোছানোর অনেক কাজও করা হয়েছিল। কিন্তু ওর ঈদ উদযাপন আর বিয়ে করা হলো না।
নিহতের ফুফু বিলকিস বেগম জানান, ঘটনার আগের রাতেও তার সঙ্গে শরিফুলের ফোনে কথা হয়েছিল। তিনি বলেন, শরিফুল বলেছিল—ফুফু কোরবানির ঈদে বাড়ি আসবো, ভালো একটা ঘর করে বিয়ে করবো, তোমরা মেয়ে দেখে রেখো। কিন্তু পরদিন সকালেই শুনলাম সে আর নেই।
শরিফুলের ছোট ভাই শিপুল ফকির বলেন, রোববারও কথা বলার সময় ভাইয়া বলেছিল কোরবানির ঈদে বাড়ি এসে সবার সাথে ঈদ করবে এবং বিয়ে করবে। কিন্তু তার কোনো স্বপ্নই পূরণ হলো না।
বর্ণি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর কবির জানান, ঘটনার পর তিনি নিহতের বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়েছেন। পাশাপাশি গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য এসএম জিলানীকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিনি নিহত শরিফুলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সময়ের আলো/জেডি