সুদানে একটি সোনার খনি ধসে অন্তত ৬০ জন খনি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটির পশ্চিম কোর্দোফান অঞ্চলের এল-নুহুদ শহরের কাছে আল-জারা সোনার খনিতে মঙ্গলবার একাধিক খনি সুড়ঙ্গ ধসে পড়ে। পরদিন সকাল পর্যন্ত সেখান থেকে ৬০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
খনিতে কাজ করা দুই জীবিত শ্রমিক এএফপিকে জানান, ধসের পর সহকর্মীরা সারারাত উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
জীবিত উদ্ধার হওয়া শ্রমিক খায়ের আল-সাইয়েদ জাবারা বলেন, ভেতরে আরও কতজন আটকা পড়ে আছেন, আমরা জানি না। সবাই খুব কঠোরভাবে মরদেহ কিংবা জীবিত কাউকে উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। কিন্তু এটি খুবই কঠিন। পাথর ও মাটি সরাতে আমাদের ভারী যন্ত্রপাতি প্রয়োজন।
আরেক শ্রমিক আল-আমিন সুলেইমান জানান, খনিটির বিভিন্ন সুড়ঙ্গ একে অপরের খুব কাছাকাছি। একটি সুড়ঙ্গ ধসে পড়লে আশপাশের সুড়ঙ্গগুলোও ধসে যায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৬০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং মঙ্গলবার থেকে আরও অনেক শ্রমিক মাটির নিচে আটকা রয়েছেন। তাদের জীবিত থাকার সম্ভাবনা খুবই কম বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে ভয়াবহ সংঘাত চলছে। এ সংঘাতে সোনার ব্যবসা উভয় পক্ষের অর্থের অন্যতম উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুদ্ধের কারণে সুদানের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। ফলে জীবিকার সন্ধানে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ ও অনানুষ্ঠানিক সোনার খনিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
দেশটির মোট সোনা উত্তোলনের বড় অংশই আসে ক্ষুদ্র ও কারিগরি খনন থেকে। এসব খনন কার্যক্রমের অনেকগুলোই অনানুষ্ঠানিক এলাকায় কিংবা পরিত্যক্ত খনিতে পরিচালিত হয়, যেখানে নিরাপত্তাব্যবস্থা অত্যন্ত সীমিত।
এদিকে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে সুদান বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ ক্ষুধা ও বাস্তুচ্যুতি সংকটে রয়েছে। দেশটিতে প্রায় ২ কোটি মানুষ সংকটপূর্ণ মাত্রার খাদ্যসংকটে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ