ভারতের মণিপুরে ফের উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তামেংলং জেলায় সন্দেহভাজন নাগা বিদ্রোহীদের গুলিতে দুই নারী নিহত এবং কয়েকটি বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) টাইমস নাউ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
সর্বশেষ হামলায় তামেংলংয়ের ৬০ বছর বয়সী চঙ্গা সিথলো ও ৩০ বছর বয়সী কিমবোই সিংন নিহত হন। পরে একটি খেত থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
গত দুই দিনে তামেংলং ও নোনি জেলায় সংঘাত ও হামলায় মোট ছয়জন নিহত হয়েছেন। এর আগে ১৩ সেপ্টেম্বর তামেংলংয়ের টোলেন কুকি গ্রামে হামলায় এক দম্পতি নিহত হন। ওই ঘটনায় তাদের শিশুসন্তানও আহত হয়।
একই দিনে নোনি জেলার লংপি গ্রামে সশস্ত্র হামলাকারীদের গুলিতে এক নারী ও এক পুরুষ নিহত হন।
সর্বশেষ ঘটনায় নিহত দুই নারীর মরদেহ গ্রহণ না করার ঘোষণা দিয়েছে চুড়াচাঁদপুরভিত্তিক কুকি সংগঠন ‘কুকি ইনপি মণিপুর’। সংগঠনটির ভাষ্য, নিহতদের পরিবারের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত কষ্টকর হলেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মরদেহ গ্রহণ করা হবে না।
এক বিবৃতিতে সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, নিরপরাধ কুকি-জো বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা অব্যাহত থাকলেও কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তাদের দাবি, বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতায় পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
২০২৩ সালের মে মাসে মণিপুরে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত সংঘাত শুরু হয়। এরপর থেকে সহিংসতায় শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। চলমান পরিস্থিতিতে নতুন করে প্রাণহানি ও হামলার ঘটনায় রাজ্যটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
সময়ের আলো/জেকিউএফ