‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশা আল্লাহ’র মতো ইসলামি অভিবাদনমূলক শব্দ ব্যবহার করে হিন্দুত্ববাদীদের তোপের মুখে পড়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বুশারা বানু নামে নারী পুলিশ কর্মকর্তা। বিতর্কের জেরে তাকে বদলিও করা হয়েছে। তবে, এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাজ্য পুলিশ। তাদের দাবি, এটি ছিল নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, খড়গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বুশারা বানুকে রাজ্য সশস্ত্র পুলিশের চতুর্থ ব্যাটালিয়নের ডেপুটি কমান্ড্যান্ট পদে বদলি করা হয়েছে। তবে, এই বদলির কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দলগুলো।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় বুশারা বানুর একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে। ওই ভিডিওতে তাকে ‘আসসালামু আলাইকুম’, ‘ইনশাআল্লাহ’ এবং ‘জাযাকাল্লাহ’ শব্দ ব্যবহার করতে দেখা যায়। এরপর অভিযোগ ওঠে, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে এমন সম্ভাষণ ব্যবহারের কারণেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বুশারা বানুর বদলি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং এর সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট মন্তব্য বা ভিডিওর সম্পর্ক নেই।
এর আগে, বুশারা বানুর ওই ভিডিও নিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানায় হিন্দু লিগ্যাল ফান্ড নামে একটি সংগঠন। তাদের দাবি, সরকারি দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের প্রকাশ্য বক্তব্যে জাতীয় অভিবাদন ব্যবহার করা উচিত।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র বুশারা বানুর বদলি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, বিষয়টি নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে।
তবে, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এ বদলির বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক কারণের কথা জানানো হয়নি।
বুশারা বানু আগে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। পরে সুবিধাজনক চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে এসে দুবার অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (ইউপিএসসি) পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হন। সম্প্রতি তিনি খড়গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট (এএসপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এই কর্মকর্তার বদলিকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখন পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
সময়ের আলো/মহু