হরমুজ প্রণালির আকাশে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তৃতীয় মার্কিন এমকিউ-১ প্রিডেটর ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। মঙ্গলবার দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, নতুন একটি উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়েছে।
আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের দাবি, ইরানের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক ড্রোনটি শনাক্ত ও অনুসরণ করার পর ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সেটিকে ভূপাতিত করে।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে হরমুজ প্রণালির আকাশে আরেকটি মার্কিন এমকিউ-১ প্রিডেটর ড্রোন ধ্বংসের দাবি করেছিল আইআরজিসি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি শনাক্ত ও অনুসরণ করার পর কোনো ধরনের হামলা চালানোর আগেই সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
সর্বশেষ ঘটনাটি নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের হাতে তিনটি মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন ধ্বংসের দাবি উঠল। এর আগে গত সপ্তাহেও ইরানের সেনাবাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট হরমুজ প্রণালির কাছে একটি মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছিল।
হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকায় পরিণত হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হওয়ায় এই নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ রয়েছে।
প্রতিবেদনে ব্লুমবার্গের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি যুদ্ধের পর ইরান দুই ডজনের বেশি মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ধ্বংস করেছে। এসব ড্রোনের প্রতিটির মূল্য প্রায় ৩ কোটি ডলার হওয়ায় মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া মার্কিন কংগ্রেসে দেওয়া সাক্ষ্য এবং দ্য ওয়ার জোনের তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন বিমানবাহিনীর সক্রিয় এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের সংখ্যা প্রায় ১৩৫টিতে নেমে এসেছে। এর আগে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সংখ্যা ১৮৯ হিসেবে নির্ধারিত ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জেনারেল অ্যাটমিকস অ্যারোনটিক্যাল সিস্টেমস জানিয়েছে, নতুন এমকিউ-৯এ ড্রোন কেনার জন্য ১০টিরও কম এয়ারফ্রেম অবশিষ্ট রয়েছে এবং এর উৎপাদন লাইনও বন্ধ হয়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।