আলাস্কার উপকূলে মাছ ধরতে গিয়ে নৌকা ডুবে যাওয়ার পর হিমশীতল সমুদ্রে ৬২ ঘণ্টা বেঁচে ছিল ১৫ বছরের কিশোর ডেরেক পার্কার আগনাঙ্গা। নৌকাটি উল্টে যাওয়ার ঘটনায় তার বড় ভাই ও এক চাচাতো ভাই মারা গেলেও প্রাণে বেঁচে যায় ডেরেক।
গত ৫ সেপ্টেম্বর আলাস্কার উপকূল থেকে বের হওয়ার পর হঠাৎ বিপদে পড়ে তাদের ছোট মাছ ধরার নৌকাটি। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে নৌকাটি উল্টে গেলে সবাই ঠান্ডা পানিতে পড়ে যায়। শুরুতে তারা একসঙ্গে থাকার চেষ্টা করলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড জানায়, ৭ সেপ্টেম্বর সকালে সেন্ট লরেন্স দ্বীপের প্রায় ৪ মাইল পূর্বে উল্টে থাকা নৌকাটি শনাক্ত করা হয়। সেখান থেকে ডেরেককে জীবিত উদ্ধার করা হয়। পরে কাছাকাছি থাকা একটি নৌযানের মাধ্যমে তাকে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার ভাই ও চাচাতো ভাইয়ের মরদেহও উদ্ধার করা হয়।
ডেরেকের স্বজনদের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পানিতে পড়ে যাওয়ার পর তার ভাই ও চাচাতো ভাই মারা গেলে তাদের মরদেহ ভেসে যাতে দূরে চলে না যায়, সে জন্য কিশোরটি দীর্ঘ সময় তাদের আঁকড়ে ধরে রাখার চেষ্টা করে। পরে স্রোতের টানে বাধ্য হয়ে তাদের ছেড়ে দিতে হয় তাকে।
ডেরেকের খালা কলিন ওয়াকার একটি তহবিল সংগ্রহের পেজে লিখেছেন, ডেরেক যতক্ষণ সম্ভব তার ভাই ও চাচাতো ভাইকে ধরে রাখার চেষ্টা করেছিল। শেষ পর্যন্ত তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নৌকার মাছ ধরার একটি লাইন ইঞ্জিনের সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়ার পর সেটি ছাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে আবহাওয়া খারাপ হয়ে গেলে নৌকাটি উল্টে যায়।
প্রচণ্ড ঠান্ডা পানিতে প্রায় তিন দিন কাটানোর পর উদ্ধার হওয়া ডেরেক তখন মারাত্মক পানিশূন্যতা ও শরীরের অতিরিক্ত তাপমাত্রা কমে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছিল। তার অবস্থা ছিল সংকটজনক। উদ্ধারের পর দ্রুত তাকে আকাশপথে চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ডের আর্কটিক জেলার কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল বব লিটল এই ঘটনায় নিহত দুই নাবিকের পরিবার, বন্ধু ও স্থানীয় মানুষের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া নৌযান, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও স্থানীয় উদ্ধারকারীদের প্রচেষ্টারও প্রশংসা করেন তিনি।
সময়ের আলো/কেএইচ