ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচনকে সংখ্যালঘু ভোটারদের জন্য ‘পরীক্ষা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিজেপি নেতা ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ায় এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি সংখ্যালঘু ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, বিজেপিকে ভোট না দেওয়া ভোটারদের জন্য সরকারের সঙ্গে থাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ এসেছে।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘এবার নন্দীগ্রামে বিজেপি এত বড় ব্যবধানে জিতবে, তা কেউ কখনো ভাবতে পারেনি। শুধু নন্দীগ্রামেই নয়, গঙ্গার ওপারেও আমি তাকে (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) হারিয়েছি। আর যারা সংখ্যালঘু, যারা আমাদের ভোট দেন না, বিজেপিকে ভোট দেন না, তাদের সবার সামনে এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ—তারা সরকারের সঙ্গে থাকবেন কি না। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করবেন কি না, ৬ তারিখে তাদের এই পরীক্ষা দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তোমাদের পরীক্ষা রেজিনগর ও নন্দীগ্রামে। দেখা যাক, তোমরা পাস করো নাকি ফেল। আর ১৮ তারিখের পর বাকি বিষয় দেখা যাবে।’
নন্দীগ্রাম আসনটি শুভেন্দু অধিকারী ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়। তিনি ভবানীপুর আসন ধরে রেখেছিলেন, যেখানে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছিলেন। অন্যদিকে, রেজিনগর আসনটি খালি হয় এজেইউপি প্রধান হুমায়ুন কবির দুটি আসন থেকে জয় পাওয়ার পর একটি আসন ছেড়ে দেওয়ায়।
আগের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে বিজেপির ভোটের হার ছিল ৫০ দশমিক ৫৬ শতাংশ। রেজিনগরে দলটি ২৭ দশমিক ০২ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছিল। সেখানে হুমায়ুন কবির ৫১ দশমিক ৬২ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন।
নন্দীগ্রামে বিজেপি এবার প্রার্থী করেছে হাসিরানি রথকে। তিনি গত ৬ মে গুলিতে নিহত শুভেন্দু অধিকারীর সহযোগী চন্দ্রনাথ রথের মা। নির্বাচনের ফল ঘোষণার দুই দিন পর ওই হত্যাকাণ্ড ঘটে। রেজিনগরে বিজেপির প্রার্থী সখরাভ সরকার।
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যের সমালোচনা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির সাংসদ সৌগত রায় একে ‘হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সংখ্যালঘুদের নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের তিনি নিন্দা জানান।
তৃণমূলের আরেক সাংসদ দোলা সেন বলেন, ভারত বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের দেশ। প্রশাসনের প্রধানকেও দেশের এই বৈচিত্র্যকে স্বীকার ও সমুন্নত রাখা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, বিজেপি নেতা কেয়া ঘোষ শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিরোধী দলগুলোর সমালোচনা করেন। তার দাবি, তৃণমূল, বাম ও কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘুদের ‘ভোটব্যাংক’ হিসেবে ব্যবহার করেছে এবং তাদের উন্নয়নের কথা বলে ভোট চেয়েছে।
সময়ের আলো/কেএইচ