ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত সংসদ সদস্য মাহবুবা হাকিমের হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে অসংগতির বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে তিনি ও তার দল।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক ও সংসদ সদস্য মাহবুবা হাকিম জানান, হলফনামায় থাকা শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ‘মিথ্যা তথ্য’ বা তথ্য গোপনের ঘটনা নয়।
তাদের দাবি, নোটারি ও হলফনামা তৈরির সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে যান্ত্রিক ও তথ্যগত ভুলের কারণে এমন অসংগতি হয়েছে।
তারা জানান, হলফনামার সঙ্গে মাহবুবা হাকিমের প্রকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ সংযুক্ত ছিল। বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) থেকে অর্জিত বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির ওই সনদ জমা দেওয়া হয়েছিল। ফলে প্রকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা গোপন করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না বলে তাদের দাবি।
এর আগে দেশের একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, মাহবুবা হাকিম বুটেক্স থেকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করলেও হলফনামায় সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘরে ‘এমএলএম, ব্যারিস্টার এট ল’ উল্লেখ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে তাঁর সংসদ সদস্য পদ নিয়ে আইনি প্রশ্নও তোলা হয়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, সাধারণত হলফনামা তৈরির সময় নোটারি ও টাইপ করার কাজে আগের কোনো ড্রাফট বা নির্দিষ্ট ফরম্যাট ব্যবহার করা হয়। সেই ড্রাফট নিয়ে কাজ করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত কপি-পেস্টের মাধ্যমে আগের তথ্য রয়ে গেছে।
তার ভাষ্য, এটি পুরোপুরি ‘প্রিন্টিং ও যান্ত্রিক মিস্টেক’।
মামুনুল হক আরও বলেন, হলফনামার সঙ্গে সহায়ক নথি হিসেবে মাহবুবা হাকিমের প্রকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জমা দেওয়া হয়েছিল। ওই সনদে বুটেক্সের ডিগ্রির তথ্য স্পষ্ট ছিল। ফলে শিক্ষাগত যোগ্যতা গোপন করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।
তিনি বলেন, বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং একটি স্বীকৃত উচ্চতর পেশাগত ডিগ্রি। তার মতে, হলফনামার এই অনাকাঙ্ক্ষিত অসংগতিকে ‘তথ্যগত ভুল’ বলা যেতে পারে, তবে এটিকে ‘মিথ্যা তথ্য’ বলা উচিত নয়। কারণ এর পেছনে কোনো অসততা বা প্রতারণার উদ্দেশ্য ছিল না।
মাহবুবা হাকিম বলেন, বিষয়টির দায় এককভাবে কারও ওপর চাপানো বা শুধু দলের ভুল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মনোনয়নসংক্রান্ত কাগজপত্র প্রক্রিয়াকরণের দায়িত্ব দলের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ওপর ছিল। তবে পূর্ব অভিজ্ঞতার অভাব ও তাড়াহুড়ার কারণে নিজের পক্ষ থেকেও কাগজপত্র আরও ভালোভাবে যাচাই করা উচিত ছিল বলে স্বীকার করেন তিনি।
সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রেও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সঠিক শব্দ ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছেন এই সংসদ সদস্য।
সময়ের আলো/জেডি