ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণের জন্য জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের আরও এক বছর কাজ করার অনুমতি দিতে চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে রাশিয়া ও চীন ভেটো দেওয়ায় সেই প্রস্তাব আটকে গেছে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাবটির পক্ষে ১১টি দেশ ভোট দেয়। রাশিয়া ও চীন বিপক্ষে ভেটো দেয় এবং সোমালিয়া ও পাকিস্তান ভোটদানে বিরত থাকে।
তবে এতে ইরানের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা বাতিল হয়নি। এসব নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ইরানের বিদেশি সম্পদ জব্দ করা, অস্ত্র কেনাবেচায় বাধা এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
২০১৫ সালের ইরান পরমাণু চুক্তির আওতায় গত বছর নিষেধাজ্ঞা আবার চালু করা হয়। এরপর জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের একটি দল নিষেধাজ্ঞা মানা হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পায়। কিন্তু তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নতুন অনুমোদন এবার রাশিয়া ও চীনের ভেটোর কারণে আটকে গেল।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, বিশেষজ্ঞদের কাজ বন্ধ হলে ইরানের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের বিষয়ে স্বাধীনভাবে তথ্য পাওয়ার সুযোগ কমে যাবে।
অন্যদিকে রাশিয়া বলেছে, ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনরায় চালু করাই আইনগতভাবে সঠিক হয়নি। তাই এসব নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবেরও কোনো আইনগত ভিত্তি নেই বলে দাবি করেছে মস্কো।
এদিকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালানোর পর জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষকেরা দেশটির ইউরেনিয়াম মজুতের বর্তমান অবস্থা যাচাই করতে পারেননি।
জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থার হিসাবে, ইরানের কাছে ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করা হয়েছে। অস্ত্র তৈরির উপযোগী ইউরেনিয়াম সাধারণত ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করা হয়।
ফ্রান্স জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেলেও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা কীভাবে কার্যকর রাখা যায়, তা নিয়ে তারা কাজ করবে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ