পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের (কেপি) কোহাটে পুলিশ সদর দফতরে বিস্ফোরণ ও বন্দুক হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৬ জন পুলিশ সদস্য। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। হামলার পর দ্বিতীয় দিনেও পুলিশ কমপ্লেক্সের ভেতরে গোলাগুলি চলছে এবং ৮ জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মানুষের শহর কোহাটের ওল্ড পুলিশ লাইন্স কমপ্লেক্সে হামলা চালায় সশস্ত্র হামলাকারীরা। জেলা পর্যায়ের এই পুলিশ সদর দফতরে কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্ট (সিটিডি), স্পেশাল ব্রাঞ্চসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয় রয়েছে।
গণমাধ্যমকে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘হামলা ও আত্মঘাতী বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত ৩১ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৬ জন পুলিশ সদস্য। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ।’
কোহাটের জেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার শুক্রবার রাতের এক বিবৃতিতে বলা হয়, হামলায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের অধিকাংশই পুলিশ সদস্য এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
হামলার দায় স্বীকার করেছে স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী ইতেহাদ-উল-মুজাহিদিন পাকিস্তান। সংগঠনটি তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রতি কেপি ও পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বেলুচিস্তানে হামলা বেড়ে যাওয়ার জন্য পাকিস্তান আফগানিস্তান থেকে পরিচালিত জঙ্গি তৎপরতাকে দায়ী করে আসছে। তবে পাকিস্তানের এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। এ নিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা ও সশস্ত্র সংঘাতও বেড়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় হামলার নিন্দা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, বিস্ফোরণে বহু মানুষ আহত হওয়ায় তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারিও হতাহতের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। তিনি বলেন, ‘ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ’ ও বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের পুরোপুরি নির্মূল করা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।
সময়ের আলো/জেডি