যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া ইসলামাবাদ সমঝোতায় ফিরে যেতে কূটনৈতিক তৎপরতা ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আলী জেইনিভান্দ বলেন, চুক্তিকে ঘিরে বিরোধ মেটাতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে সমঝোতায় প্রতিপক্ষের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের ওপর জোর দিয়েছে তেহরান।
জেইনিভান্দের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসলামাবাদ সমঝোতাটি ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল অনুমোদন করেছে এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিও এতে অনুমোদন দিয়েছেন। ফলে এটি ইরানি রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করতে ইরানের সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের ভারত ও কিরগিজস্তানে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও) ও ব্রিকসের বৈঠকে অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনা এই প্রচেষ্টার অংশ বলেও জানান তিনি।
যেভাবে শুরু ইসলামাবাদ সমঝোতা
২০২৬ সালের ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৪ দফা ইসলামাবাদ সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়। পাকিস্তান এতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে। চুক্তির প্রথম ধাপে ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার কথা ছিল।
সমঝোতাটি কার্যকর থাকার কথা থাকলেও জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ওয়াশিংটন অভিযোগ করেছিল, ইরান বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। তেহরান সেই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায়। এর পর চুক্তির বাস্তবায়ন কার্যত ভেঙে পড়ে।
আগস্টের শেষ দিকে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ সরাসরি হামলা না হলেও শান্তি আলোচনা স্থবির থাকার খবর পাওয়া যায়। এর মধ্যেই তেহরান বারবার ওয়াশিংটনকে সমঝোতার প্রতিশ্রুতি পালনের আহ্বান জানিয়ে আসছে।
সময়ের আলো/জেডি