আধুনিক প্রযুক্তির কথা বলে বিদ্যুতের ডিজিটাল প্রিপেইড মিটার চালু করা হলেও এতে গ্রাহকদের বাড়তি খরচ ও হয়রানি বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিভিন্ন স্তরের নাগরিক ও রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠনের নেতারা। এই মিটার বাতিলের দাবিতে গাইবান্ধায় প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে গাইবান্ধা শহরের ডিবি রোডে গানাসাস মার্কেটের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ডিজিটাল প্রিপেইড মিটার প্রতিরোধ কমিটি এবং বিদ্যুৎ গ্রাহক অধিকার রক্ষা জাতীয় কমিটির জেলা শাখা যৌথভাবে এ আয়োজন করে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, উন্নত প্রযুক্তির নামে প্রিপেইড মিটার বসানোর ফলে গ্রাহকদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। পাশাপাশি নানা ধরনের হয়রানির মুখেও পড়ছেন তারা। তাদের দাবি, এই ব্যবস্থা গ্রাহকের স্বার্থের পরিপন্থী এবং একে ঘিরে এক ধরনের শোষণ চলছে। তাই অবিলম্বে এটি বাতিল করতে হবে।
সমাবেশ থেকে বেশ কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— গ্রাহকের ওপর শোষণ ও হয়রানির কারণ হিসেবে চিহ্নিত ‘গণবিরোধী’ প্রিপেইড মিটার বাতিল করা, সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ খাতকে বেসরকারিকরণের সব তৎপরতা বন্ধ করা, বিদ্যুৎ সংকটের জনবান্ধব সমাধান করা, বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতি নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা ও বিদ্যুৎ গ্রাহকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা।
বক্তারা বলেন, এসব দাবি বাস্তবায়িত না হলে গ্রাহকদের ভোগান্তি আরও বাড়বে। তারা সাধারণ মানুষকে এই আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
বিদ্যুৎ গ্রাহক অধিকার রক্ষা জাতীয় কমিটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা শাখার আহ্বায়ক গোলাম রব্বানী মুসার সভাপতিত্বে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন গাইবান্ধা বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য অ্যাডভোকেট ফারুক কবীর।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মিহির ঘোষ, গাইবান্ধা পরিবেশ আন্দোলনের আহ্বায়ক ওয়াজিউর রহমান রাফেল এবং জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু, জেলা সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মুরাদজামান রব্বানী, কমিউনিস্ট নেতা রেবতী মোহন, গাইবান্ধা প্রেস ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক রজতকান্তি বর্মণ, নাট্যকর্মী শাহ আলম বাবলু, উদীচীর জেলা সাধারণ সম্পাদক শিরিন আকতার প্রমুখ, আইনজীবী কুশলাশীষ চক্রবর্তী, রবিদাস ফোরামের খিলন রবিদাস প্রমুখ।
সময়ের আলো/আতা