যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধে নিজেদের শর্ত মধ্যস্থতাকারী কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে পাঠিয়েছে ইরান। তেহরান বলে জানিয়েছেন তারা এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব রেজাই বলেন, যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাব্য পথ নিয়ে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পরোক্ষ কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। এসব আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের শর্ত জানানো হয়েছে।
রেজাই জানান, যুদ্ধ বন্ধের জন্য তেহরানের প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান, বিদেশে আটকে থাকা ইরানের অর্থ ছাড় এবং ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার।
তিনি বলেন, কাতার ও পাকিস্তানের সঙ্গে ইরানের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনার শর্তও জানানো হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে রেজাই আরও বলেন, সামরিক উত্তেজনাও পুরোপুরি কমেনি। সম্প্রতি একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর কাছে ইরান একটি জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে বলে জানান তিনি।
একই সঙ্গে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যকার সংঘাতও বন্ধ হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন রেজাই।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার বিষয়েও একই ধরনের শর্ত আগে জানিয়েছিল তেহরান। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ ও নৌ অবরোধ বন্ধ না করা, ইরানের জব্দ সম্পদ ছেড়ে না দেওয়া এবং আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত না হওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে না।
এর মধ্যে বুধবার ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘আশাবাদী যে যুদ্ধের শেষ পর্যায়ের দিকে’ রয়েছে এবং ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন। তবে তেহরান এখনো ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
কাতার ও পাকিস্তান কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতায় যুক্ত রয়েছে। গত মাসে কাতারের প্রধানমন্ত্রী তেহরানে রেজাইয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। একই সময়ে পাকিস্তানি কর্মকর্তারাও ইরানের নেতাদের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা করছেন।
সময়ের আলো/জেডি