গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে শাহাজাদী বেগম (২০) নামে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের বাবার দাবি, পারিবারিক কলহে এবং যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের পর পরিকল্পিতভাবে তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত শাহাজাদী বেগম উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের রামপুরা (জাদুর বাজার) এলাকার শাহিন মিয়ার মেয়ে। প্রায় দুই বছর আগে উপজেলার তালুক কানুপুর ইউনিয়নের দামোদরপুর এলাকার মেহেরাজ মিয়ার সঙ্গে মুসলিম শরিয়াহ অনুযায়ী তাদের বিয়ে হয়।
নিহত গৃহবধূ শাহাজাদী বেগমের বাবা শাহিন মিয়া গোবিন্দগঞ্জ থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তার মেয়েকে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন প্রায়ই মারপিট ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। শাহাজাদী সংসার টিকিয়ে রাখার আশায় এসব নির্যাতন সহ্য করে আসছিলেন। এরই মধ্যে তিনি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুর পৌনে ৩টার দিকে শাহাজাদী তার বাবাকে ফোন করে কান্নাকাটি করে জানান, তিনি বাবার বাড়িতে যাওয়ার জন্য বের হয়েছেন, কিন্তু শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে যেতে দিচ্ছেন না। এরপর বিকেল পৌনে ৫টার দিকে তার স্বামী ফোন করে শাহিন মিয়াকে জানান, শাহাজাদী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং তাকে গোবিন্দগঞ্জ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।
খবর পেয়ে শাহিন মিয়া পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে দেখতে পান, শাহাজাদীকে চাদরে মোড়ানো অবস্থায় জরুরি বিভাগের মেঝেতে রাখা হয়েছে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে নিহতের মরদেহ শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তার বাবা।
শাহিন মিয়ার অভিযোগ, মেয়ের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় তার সন্দেহ, পারিবারিক কলহের জেরে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেছেন।
গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/এনএন