দীর্ঘ ৭ মাস বন্ধ থাকার পর গ্যাস সংযোগ পাওয়ার পর পুনরায় উৎপাদনে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জামালপুরের সরিষাবাড়ীর তারাকান্দিতে অবস্থিত দানাদার ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানায়। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে কারখানাটির স্টার্ট-আপ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যমুনা সার কারখানার উৎপাদন শাখার বিভাগীয় প্রধান ফজলুল হক রতন। যমুনা সার কারখানায় দীর্ঘ ৭ মাস বন্ধের পর গ্যাস সংযোগ পেয়ে সার কারখানা স্টার্টআপে যাওয়ায় এবং উৎপাদনে ফেরার কার্যক্রম চালু করায় সারকারখানার শ্রমিক- কর্মচারী, ব্যবসায়ী, পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে উৎফুল্ল বিরাজ করছে।
জেএফ সিএল সূত্রে জানা গেছে, যমুনা সার কারখানা মাটি ১৯৯০ সালে সরিষাবাড়ীতে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৯১ সালে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হয়। কারখানাটির দৈনিক ইউরিয়া উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন। এবং অ্যামোনিয়া ১০৭৮ মেট্রিক টন। এখান থেকে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, রাজবাড়ীসহ উত্তরবঙ্গের ২১ জেলার প্রায় আড়াই হাজার ডিলার ইউরিয়া সার সরবরাহ করে থাকেন।
জে এফ সি এল সূত্রে আরও জানা যায়, গ্যাস সংকটের কারণে ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি থেকে যমুনা সার কারখানায় ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পর গত ২০২৫ ই সালের ২৩ নভেম্বর অর্থাৎ ২২ মাস পর তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড পুনরায় গ্যাস সংযোগ দেয়।
পরবর্তীতে চলতি বছরের ১২ ই ফেব্রুয়ারি থেকে গ্যাস সংকটে উৎপাদন কার্যক্রম আবারও বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধের ৭ মাস পর পুনরায় রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় যমুনা সার কারখানাটিতে ইউরিয়া সার উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
দীর্ঘ ৭ মাস পর যমুনা সারকারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকায় একদিকে ইউরিয়া সার সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ে, অন্যদিকে কারখানা কেন্দ্রিক পরিবহণসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতের শ্রমিকদের ওপরও এর প্রভাব পড়ে।
যমুনা সার কারখানার উৎপাদন শাখার বিভাগীয় প্রধান ফজলুল হক রতন বলেন, দীর্ঘ ৭ মাস পর গ্যাস সরবরাহ পেয়ে রোববার দুপুর ১২টা থেকে স্টার্ট-আপ কার্যক্রম চলমান রাখা হয়েছে। এ কার্যক্রমে যমুনা সার কারখানাটিতে পুনরায় উৎপাদনে ফেরার প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করেছে। স্টার্ট-আপের বিভিন্ন ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হলে আগামী ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে ইউরিয়া উৎপাদনে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সময়ের আলো/আতা