প্রকাশ: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৫ পিএম
নিউজিল্যান্ডের বিরল পাখি ‘ব্ল্যাক রবিন’। ছবি : সংগৃহীতবিলুপ্তির দ্বার থেকে ফিরে আসা নিউজিল্যান্ডের বিরল পাখি ‘ব্ল্যাক রবিন’ এবার জিতে নিয়েছে দেশটির ‘বার্ড অব দ্য ইয়ার’ প্রতিযোগিতার শিরোপা। এবারের প্রতিযোগিতায় রেকর্ড ১ লাখ ৫ হাজার ভোট পড়েছে।
ব্ল্যাক রবিনের আবাসস্থল নিউজিল্যান্ডের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত চ্যাথাম দ্বীপপুঞ্জ। মাওরি ভাষায় পাখিটির নাম কাকারুইয়া। কালো পালক, চোখ ও সরু ঠোঁটের কারণে পাখিটিকে নিউজিল্যান্ডের পাখিজগতের ‘গথ’ বলেও ডাকা হয়।
একসময় আবাসস্থল ধ্বংস এবং বহিরাগত শিকারি প্রাণীর আক্রমণে পাখিটির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। ১৯৭০-এর দশকে বিশ্বে ব্ল্যাক রবিনের সংখ্যা নেমে আসে মাত্র পাঁচটিতে। তখন টিকে ছিল মাত্র একটি প্রজননক্ষম জুটি, ‘ওল্ড ব্লু’ ও ‘ওল্ড ইয়েলো’।
এরপর শুরু হয় বিশেষ সংরক্ষণ কার্যক্রম। অন্য প্রজাতির পাখিকে পালক মা হিসেবে ব্যবহার করে ব্ল্যাক রবিনের ডিম ফোটানোর পরীক্ষামূলক উদ্যোগ সফল হয়। সেই প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ায় প্রজাতিটি। বর্তমানে চ্যাথাম দ্বীপপুঞ্জে প্রায় ৩৫০টি পূর্ণবয়স্ক ব্ল্যাক রবিন রয়েছে। তবে এখনো এটি ‘বিপন্ন’ প্রজাতি হিসেবে তালিকাভুক্ত।
চ্যাথাম আইল্যান্ডস ল্যান্ডস্কেপ রেস্টোরেশন ট্রাস্টের মুখপাত্র জেস ম্যাকেঞ্জি বলেন, পাখিটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হলেও গত কয়েক বছর প্রতিযোগিতার সেরা পাঁচে থাকার পরও কখনো শিরোপা জিততে পারেনি।
সংরক্ষণবিদদের মতে, ব্ল্যাক রবিনের ভবিষ্যৎ এখনো পুরোপুরি নিরাপদ নয়। বর্তমান আবাসস্থলের ধারণক্ষমতা প্রায় পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি টিকে থাকার জন্য আরও একটি কীটপতঙ্গ ও শিকারিমুক্ত দ্বীপ প্রয়োজন।
এবার প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে ভারী তোতা কাকাপো। তৃতীয় হয়েছে ২০২৫ সালের বিজয়ী নিউজিল্যান্ডের একমাত্র ফ্যালকন কারেয়ারাহ।
সময়ের আলো/এমকে