খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বোয়ালখালী চৌমুহনী এলাকার একটি স্টিল ব্রিজ হেলে পড়েছে। এতে রাঙামাটির মাইনী ও লংগদুর মধ্যে ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। গত কয়েক দিন ধরেই চলছে এই অবস্থা। মাইনী ও লংগদুর সঙ্গে দীঘিনালার সড়ক যোগাযোগে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদেরও।
এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৌম্য তালুকদার বলেন, ব্রিজটির সমস্যার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও জানান খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৌম্য তালুকদার।
সোমবার সরেজমিন দেখা যায়, হেলে পড়া ব্রিজটির ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে মোটরসাইকেল, মাহিন্দ্রাসহ ছোট যানবাহন চলাচল করছে। তবে বড় ও ভারী যানবাহন ব্রিজটি পারাপার করতে পারছে না। স্থানীয়দের দাবি, পাথরবোঝাই একটি ভারী যান ব্রিজের ওপর ওঠার পর সেতুটির এক পাশ হেলে পড়ে। এরপর থেকে সড়কটিতে বড় ও ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এদিকে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাইনী ও লংগদুগামী যাত্রীরা ব্রিজের কাছে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন। ভারী যানবাহন পারাপার করতে না পারায় অনেককে বিকল্প যানবাহনের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয়ের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনেও সমস্যা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, হেলে পড়া ব্রিজ দিয়ে ছোট যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। পাশাপাশি অতিরিক্ত চাপ পড়লে সেতুটির ক্ষতি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দ্রুততম সমযের মধ্যে মেরামতের মাধ্যমে নিরাপদ ও স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালসের এক বিক্রয় প্রতিনিধি বলেন, আমি পণ্যবোঝাই গাড়ি নিয়ে মাইনী যাচ্ছি। কিন্তু ব্রিজটি হেলে পড়ায় মালামাল আনলোড করে ওপাশে নিয়ে সিএনজি বা মাহিন্দ্রা ভাড়া করে আবার মালামাল পৌঁছাতে হবে। এতে অতিরিক্ত সময়ের পাশাপাশি ভোগান্তিও হচ্ছে।
স্থানীয় মাহিন্দ্রাচালক রমজান আলী বলেন, ভাড়া না মারতে পারলে তো টাকা পাব না। তাই জীবিকার প্রয়োজনেই আমাদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
সময়ের আলো/আতা