তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণের উদ্যোগ ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ এর রেজিস্ট্রেশনে নোয়াখালী জেলায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া। সে সাথে দেশের ৪৯৯টি উপজেলার মধ্যে শীর্ষ ১৫-তে অবস্থান করছে এই উপজেলা।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল।
সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে, তৃণমূল পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায়ে দক্ষ ক্রীড়াবিদ গড়ে তোলার উদ্যোগ হিসেবে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিকস, ব্যাডমিন্টন, দাবা, মার্শাল আর্ট, সাঁতার, ভলিবল ও টেবিল টেনিসসহ জনপ্রিয় এই ১০টি খেলায় ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সি শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে। তাদের সুপ্ত ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ, বাছাই এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে মেধাবিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।
দ্বীপাঞ্চলের ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা ও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিশু-কিশোরদের ব্যাপক অংশগ্রহণে স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও প্রত্যন্ত এলাকার শিশু-কিশোরদের মধ্যে এ কর্মসূচিকে ঘিরে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
হাতিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব আমিরুল হায়দার চৌধুরী সাজ্জাদ বলেন, হাতিয়ায় অনেক প্রতিভাবান শিশু-কিশোর রয়েছে। কিন্তু সুযোগ ও যথাযথ প্ল্যাটফর্মের অভাবে তাদের অনেকের প্রতিভা বিকশিত হওয়ার সুযোগ হয় না। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মাধ্যমে তৃণমূল থেকে এসব প্রতিভা খুঁজে বের করে প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল বলেন, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে রেজিস্ট্রেশনে হাতিয়া নোয়াখালী জেলায় প্রথম এবং দেশের ৪৯৯টি উপজেলার মধ্যে শীর্ষ ১৫-তে অবস্থান করায় আমরা আনন্দিত। উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা ও স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় এটি সম্ভব হয়েছে। এটি প্রমাণ করে, হাতিয়ার শিশু-কিশোরদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি ব্যাপক আগ্রহ ও সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে প্রত্যন্ত এলাকার প্রতিভাবান শিশু-কিশোরদের খুঁজে বের করে তাদের যথাযথ সুযোগ তৈরি করে দেওয়া।
তিনি আরও বলেন, শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। নতুন প্রজন্মকে মাদক ও বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্রীড়া কার্যক্রমকে আরও উৎসাহিত করা হবে এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সামনে এগিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা থাকবে।
স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা বলছেন, রেজিস্ট্রেশনে হাতিয়ার এ অবস্থান শুধু একটি সংখ্যাগত অর্জন নয়, এটি দ্বীপ উপজেলার নতুন প্রজন্মের ক্রীড়াপ্রেম ও সম্ভাবনারও প্রতিফলন। প্রয়োজন নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত মাঠ ও প্রয়োজনীয় ক্রীড়া অবকাঠামো। এসব সুযোগ তৈরি হলে হাতিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের খেলোয়াড়রা জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ পাবে।
সময়ের আলো/আতা