মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় তীব্র জনবল সংকটে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। অনুমোদিত ৭টি পদের বিপরীতে কার্যালয়ে কর্মরত আছেন মাত্র ৩ জন। গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকা ও কর্মরতদের প্রেষণজনিত অনুপস্থিতির কারণে উপজেলার অর্ধশতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তদারকি ও দাপ্তরিক সেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কমলগঞ্জে ২৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৬টি জুনিয়র স্কুল, ৭টি মাদ্রাসা ও ৪টি কলেজসহ মোট ৪২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে এমপিওভুক্ত ১৩টি এবং নন-এমপিও ১১টি। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক, আর্থিক ও অ্যাকাডেমিক তদারকির দায়িত্ব এই কার্যালয়ের।
বর্তমানে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে শামছুন নাহার পারভীন কর্মরত থাকলেও শূন্য রয়েছে সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, হিসাবরক্ষক, অফিস সহকারী কাম ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, অফিস সহায়কের সহকারী ও নিরাপত্তা প্রহরীর পদ।
নথিপত্রে পদ পূরণ দেখা গেলেও বাস্তবে নেই অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার। অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার মৌসুমি পাল দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে দিনাজপুরে প্রেষণে কর্মরত আছেন। আরেক কর্মকর্তা নরসিংদী জেলা শিক্ষা কার্যালয়ে প্রেষণে দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ তাদের বেতন-ভাতা কমলগঞ্জ অফিস থেকেই পরিশোধ করা হচ্ছে।
সংকট সামাল দিতে সম্প্রতি এলপিআরে (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটি) যাওয়া অফিস সহকারী কাম ডাটা এন্ট্রি অপারেটর দিলীপ কুমার সিংহকে ডেকে এনে জরুরি দাপ্তরিক কাজ চালাতে হচ্ছে।
এদিকে, পার্শ্ববর্তী শ্রীমঙ্গল উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকায় কমলগঞ্জের শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুন নাহার পারভীনকেই অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে শ্রীমঙ্গলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে দুই উপজেলার বিশাল দায়িত্ব একা সামলাতে গিয়ে বিদ্যালয় পরিদর্শন, নিয়মিত মনিটরিং ও শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
জনবল সংকটের প্রভাব পড়ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর। কমলগঞ্জ উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি সন্তোষ কুমার পাল বলেন, বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন কাজে শিক্ষকদের এই কার্যালয়ে আসতে হয়। পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় সাধারণ কাজের জন্যও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। এতে বিদ্যালয়ে সময়মতো ফিরতে না পারায় পাঠদান ব্যাহত হয়।
কার্যালয়ের অফিস সহায়ক তাজুল ইসলাম জানান, কম্পিউটার অপারেটর ও হিসাবরক্ষকের পদ শূন্য থাকায় একাই বাড়তি কাজ করতে হচ্ছে। আগামী জানুয়ারিতে তিনি নিজেও অবসরে যাচ্ছেন। নতুন নিয়োগ না হলে কার্যালয়ের কার্যক্রম পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা করেন তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুন নাহার পারভীন বলেন, প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় রুটিন কাজ করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক সভা ও অতিরিক্ত উপজেলার দায়িত্ব একা সামলানো দুরূহ। শূন্য পদ পূরণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সন্দ্বীপ তালুকদার বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন এবং জেলা সমন্বয় সভায় আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করবেন।
মৌলভীবাজার জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ ফজলুর রহমান জানান, এসব শূন্য পদের নিয়োগ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে সরাসরি নিয়ন্ত্রিত হয়। শূন্য পদের তালিকা মাউশিতে পাঠানো হয়েছে, দ্রুতই সংকটের সমাধান হবে বলে আশা করছি।
সময়ের আলো/আতা