মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর ইরানে ফ্লাইট বাতিল করেছে তুরস্কের তিনটি বিমান সংস্থা—তুর্কিশ এয়ারলাইনস, এজেট ও পেগাসাস। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানগামী ও ইরান থেকে আসা ফ্লাইট বন্ধ করেছে তারা।
মিডল ইস্ট আইয়ের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, তুর্কিশ এয়ারলাইনস ও এজেটের ওয়েবসাইটে আগামী মার্চ পর্যন্ত ইরানের কোনো ফ্লাইটের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। আর পেগাসাস তাদের বুকিং ব্যবস্থা থেকে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইরানের ফ্লাইট সরিয়ে নিয়েছে।
ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুর্কিশ এয়ারলাইনসের এক প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের মার্চের পরও ফ্লাইট পুনরায় চালু হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি মিডল ইস্ট আইকে জানিয়েছেন, ইরানের বিমান চলাচল খাতে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা এত কঠোর যে তুরস্কের বিমান সংস্থাগুলোকে ফ্লাইট স্থগিত করতে হয়েছে।
ওই ব্যক্তি বলেন, বোয়িংয়ের মতো মার্কিন তৈরি উড়োজাহাজের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি বোধগম্য হলেও নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় এয়ারবাসের উড়োজাহাজও ইরানে যেতে পারছে না। কারণ এসব উড়োজাহাজে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি বিভিন্ন যন্ত্রাংশ রয়েছে।
তার ভাষ্য, এ পরিস্থিতিতে তুরস্কের বিমান সংস্থাগুলোর সামনে ফ্লাইট বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো পথ ছিল না।
তবে তুরস্কের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সোমবার পর্যন্ত দেশটির আকাশসীমায় ইরানের শুধু মাহান এয়ারই নিষিদ্ধ ছিল। ফলে অন্য ইরানি বিমান সংস্থাগুলো আপাতত তুরস্ক ও ইরানের মধ্যে ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারছে।
যুক্তরাষ্ট্রের একের পর এক নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তুরস্ক ও ইরানের মধ্যে স্থিতিশীল সম্পর্ক এবং জ্বালানি ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ বজায় ছিল। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর পর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে।
সপ্তাহান্তে তুরস্ক ইরানের ব্যাংক মেলাতের ব্যাংকিং লাইসেন্স বাতিল করেছে। কয়েক দশক ধরে দেশটিতে কার্যক্রম চালানো ব্যাংকটির বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
এর আগে গত সপ্তাহে তুরস্কের ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রক সংস্থা গোল্ডেন গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয়। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ইরান সরকারের কাছে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
সময়ের আলো/কেএইচ