গ্রেফতার এড়াতে বাড়ি থেকে গ্রামের প্রধান সড়ক পর্যন্ত বসিয়েছিলেন ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা। হ্যাকিংয়ের কাজে ব্যবহার করতেন সাতটি মুঠোফোন, যাতে অদলবদল করে চালাতেন বিভিন্ন অপারেটরের ৬৮টি সিম। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে কবুতরের ঘরের ভেতর তৈরি করেছিলেন নিজের থাকার ব্যবস্থা। সেখানে ছিল বিছানা, সিসিটিভি মনিটর ও শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র। এত কিছুর পরও শেষরক্ষা হয়নি ওহিদুল মোল্লার (৩২)।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওহিদুল নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া গ্রামের রব্বেল মোল্লার ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ওহিদুল মোল্লা ইমো হ্যাকিং চক্রের জন্য পরিচিত বিলমাড়িয়া গ্রামের অন্যতম প্রধান হ্যাকার। তাঁর নেতৃত্বে এলাকায় কয়েক শ হ্যাকার নিয়ে বিভিন্ন চক্র গড়ে উঠেছে। স্থানীয় অনেকে তাঁকে ‘গুরু’ হিসেবে মানেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হ্যাকিং কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালাতে এবং পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে বাড়ির চারপাশে নানা নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন ওহিদুল। গ্রামের প্রধান সড়ক থেকে তাঁর বাড়ি পর্যন্ত অন্তত ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো ছিল। পুলিশ সড়ক দিয়ে বাড়ির দিকে এগোলেই যাতে আগেভাগে সতর্ক হয়ে পালাতে পারেন, সে জন্যই এই ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রাচীরঘেরা পাকা বাড়ির একটি কক্ষে কয়েক শ কবুতরের থাকার জন্য খোপ তৈরি করা হয়। সেই ঘরের ভেতরই একটি খাটে ঘুমাতেন ওহিদুল। বাইরে থেকে দেখলে সেখানে মানুষের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে—এমনটি বোঝার উপায় ছিল না। ঘরটিতে ছিল দামি আসবাব, সিসিটিভি মনিটর ও শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র। পুলিশ বলছে, এই ঘরে বসেই তিনি অন্যের মুঠোফোনে হ্যাকিং করে নিয়ন্ত্রণ নিতেন।
অভিযানে ওই কক্ষ থেকে বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের ৬৮টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। সিমগুলোর নম্বর সাদা কাগজে ছক করে লেখা ছিল। কোন সিমে বিকাশ ও কোনটিতে নগদ ব্যবহার করা হয়েছে, তা বোঝাতে সাংকেতিক চিহ্নও দেওয়া ছিল। যাতায়াতের জন্য তিনি দামি মোটরসাইকেল ব্যবহার করতেন।
ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় লালপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল মাসুম বাদী হয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেছেন। মামলায় ওহিদুল মোল্লার পাশাপাশি তাঁর আরও পাঁচ সহযোগীকে আসামি করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে মামলার বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
সূত্র : প্রথম আলো
সময়ের আলো/এসএকে