রাজবাড়ীর পাংশায় আলোচিত কাতার প্রবাসীর স্ত্রী রুনা খাতুন (৩০) হত্যা মামলার প্রধান আসামি মিলন শেখকে (২৭) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজবাড়ীর বিশেষ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ইউসুফ হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মিলন শেখ পাংশা উপজেলার খামারডাঙ্গী মুচিদাহ গ্রামের খলিল শেখের ছেলে এবং নিহত রুনা খাতুন একই গ্রামের কাতার প্রবাসী আনিছুর রহমানের স্ত্রী। বিগত ২০২৩ সালের ২০ আগস্ট গভীর রাতে রুনার বিকাশে থাকা অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করে মিলন শেখ ও তার সহযোগীরা।
এ ঘটনায় একই দিন রুনার বড় ভাই রায়হান বাদী হয়ে পাংশা মডেল থানায় ৩ জনের নামে একটি হত্যা মামলা করেন। ওই দিনই পাংশা উপজেলার খামারডাঙ্গী মুচিদাহ গ্রামের খলিল শেখের ছেলে মিলন শেখ (২৭), একই গ্রামের আলম হোসেনের ছেলে তেছেম সর্দার (১৬) ও কাজেম জোয়াদ্দারের ছেলে রিয়াজ জোয়ারদ্দার (১৫) কে গ্রেফতার করে পুলিশ।
জানা গেছে, রুনা খাতুন দুই সন্তান নিয়ে স্বামীর বাড়িতে থাকতেন। ২০২৩ সালের ১৯ আগস্ট দিবাগত রাতে সন্তানদের নিয়ে ঘুমিয়েছিলেন। রাত দেড়টার দিকে দেড় বছর বয়সী ছোট ভাইয়ের কান্নায় ১০ বছর বয়সী বোন উম্মে সিনহার ঘুম ভাঙলে সে দেখে তার মা বিছানায় নেই। এরপর সে বারান্দায় এসে দেখে প্রতিবেশী মিলন শেখ সেখানে দাঁড়িয়ে আছে, আর বাড়ির উঠানে তার মা পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে আছে। সেসময় তার চিৎকারে মিলনসহ তার সঙ্গে থাকা আরও দুইজন পালিয়ে যায়। মায়ের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীদের ডেকে আনে উম্মে সিনহা। প্রতিবেশীরা এসে দেখে তার মা মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে সকালে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় পুলিশ। একইসঙ্গে হত্যায় জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং রুনা বেগমের ছিনতাই হওয়া মোবাইল ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করা হয়।
সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. আইয়ুব আলী খান জানান, এ মামলার ৩ জন আসামি ছিল। এর মধ্যে দুইজন আসামির বয়স কম থাকায় তাদেরকে নারী ও শিশু আদালতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আজকে এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে অভিযুক্ত মিলন শেখকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। রায় ঘোষণাকালে মিলন শেখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে জানান এই আইনজীবী।
সময়ের আলো/জোই