প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কূটনৈতিক চ্যানেলে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি প্রবাসীরা যেসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, সেগুলো সমাধানে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে সিলেট সার্কিট হাউসে সরকারি দপ্তরগুলোর প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশি মিশনগুলো প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণে সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশিদের খোঁজখবর নেওয়া, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ, নিহতদের মরদেহ দেশে ফেরত আনা এবং স্বজনদের প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার কাজও মিশনগুলো করছে।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নানা তথ্য ও আলোচনা হচ্ছে। প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরতে আগামী এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিনের মধ্যে গণমাধ্যমকর্মী ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গবেষণা ও আলোচনা করেন এমন ব্যক্তিদের নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক করা হবে। সেখানে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ, বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে।
তিনি তথ্য যাচাই না করে কোনো ধরনের বক্তব্য বা প্রচারণা না চালানোর আহ্বান জানান।
ওমানে বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসা বাতিলসহ বিভিন্ন দেশে কর্মীদের নানা সমস্যার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এসব পরিস্থিতির সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক সংঘাতের প্রভাব রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।
সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, মাদক ও চোরাচালানসহ দীর্ঘদিনের অনিয়ম বন্ধে সরকার কাজ করছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে জনগণকে সম্পৃক্ত ও সচেতন করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়নে বর্তমান ও অতীতের পরিসংখ্যান তুলনা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রগুলোর পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, পর্যটনকেন্দ্রগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নে ইতোমধ্যে বিভিন্ন কাজ শুরু হয়েছে। তবে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সম্ভাব্যতা যাচাই, অর্থ বরাদ্দসহ নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। পর্যায়ক্রমে এসব উন্নয়নকাজ দৃশ্যমান হবে। ডিসেম্বরের পর এসব কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।
আসন্ন দুর্গাপূজা প্রসঙ্গে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, সিলেটের তিনটি উপজেলাসহ সারাদেশে অতীতের মতো শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। জনগণের সহযোগিতায় সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে দুর্গাপূজা উদযাপন নিশ্চিত করা হবে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নুমেরী জামান, সিলেটের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী যাবের সাদেকসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/এসএকে