গাজীপুরের শ্রীপুরে দুই শিশু সন্তানের সামনে ২৬ বছর বয়সী এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। তবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী অভিযোগটি অস্বীকার করে জানিয়েছেন, টাকার বিনিময়ে শারীরিক সম্পর্কের পর পারিশ্রমিকের টাকা না পাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এক ব্যক্তির পরামর্শে তিনি ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে মাওনা চৌরাস্তা উড়ালসড়কের নিচে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ওই নারী প্রথমে অভিযোগ করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় দুই শিশুসন্তানকে সঙ্গে নিয়ে মহাসড়কে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন।
ওই নারীর ভাষ্য, তার বাড়ি শ্রীপুর উপজেলার বারতোপা গ্রামে। তিনি প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে স্বামী-পরিত্যক্তা। তার দুই সন্তান— একজনের বয়স প্রায় সাড়ে তিন বছর এবং অপরজনের দেড় বছর। তিনি জৈনা বাজার এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া থেকে বিভিন্ন চায়ের দোকানে পানি সরবরাহ এবং মানুষের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।
তিনি জানান, দুই মাসের বাসাভাড়া বকেয়া থাকায় মঙ্গলবার বাড়ির মালিক তাকে দুই সন্তানসহ বাসা থেকে বের করে দেন। পরে রাত ১০টার দিকে দুই শিশুকে নিয়ে তিনি মাওনা চৌরাস্তা উড়ালসড়কের নিচে আশ্রয় নেন। তার অভিযোগ, রাত দেড়টার দিকে সোহরাব হোসেন নামে এক ভাসমান পান ব্যবসায়ী তাকে বাসায় আশ্রয় দেওয়ার কথা বলে নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে দুই শিশুর সামনে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযোগের পর তিনি কয়েকজনের কাছে বিচার চাইলেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানান। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে হতাশ হয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে মহাসড়কে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন। তবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারীর বক্তব্যে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর আলম জানান, সাংবাদিকদের কাছ থেকে মাওনা চৌরাস্তায় এক নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এমন খবর পেয়ে এসআই সাদি মোহাম্মদকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তিনি সেখানে গিয়ে ওই নারী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরে তাকে থানায় নিয়ে আসেন।
ওসি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী জানান, তার দুই সন্তান রয়েছে এবং অভাবের কারণে সন্তানদের দুধ ও খাবারের খরচ চালাতে তিনি টাকার বিনিময়ে যৌন সম্পর্কে জড়ান। দুই দিন আগে একজনের সঙ্গে টাকার বিনিময়ে যাওয়ার পর ওই ব্যক্তি তাকে পুরো টাকা না দিয়ে ৫০ টাকা দিয়ে চলে যান। এতে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে পাওনা টাকার জন্য বিভিন্নজনের কাছে বিষয়টি জানান।
ওসি আরও বলেন, একপর্যায়ে স্থানীয় এক ব্যক্তি তাকে পরামর্শ দেন যে, তিনি যেন বলেন তার সঙ্গে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী তখন দাবি করেন,ওই ব্যক্তির শেখানো কথামতো এবং টাকা না পাওয়ার কারণে তিনি ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়নি।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর আলম বলেন, ভিকটিমকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা এবং প্রকৃত ঘটনা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সময়ের আলো/জোই