প্রথাগত গলফের ধারণা থেকে বেরিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর নতুন আয়োজন নিয়ে ঢাকায় যাত্রা শুরু করেছে ‘বসুন্ধরা সুপার গলফ’। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পাঁচতারা মানের এই গলফ বিনোদনকেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
আমেরিকার জনপ্রিয় ‘টপগলফ’-এর আদলে সাজানো হয়েছে বসুন্ধরা সুপার গলফ। এখানে নেই প্রচলিত ড্রাইভিং রেঞ্জ বা গলফ কোর্স। এর পরিবর্তে রয়েছে প্রযুক্তিনির্ভর ‘বে এরিয়া’ ও অত্যাধুনিক গলফ সিম্যুলেটর। গলফের পাশাপাশি খাবার, আড্ডা, বিনোদন ও সামাজিক আয়োজনের সুযোগও রাখা হয়েছে।
উদ্বোধন করেন সানভীর বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমিল আহমেদ সোবহান ও তানভীর বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ ইব্রাহিম সোবহান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান এবং সানভীর বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান সাফিয়াত সোবহান সানভীর।
উদ্বোধনী বক্তব্যে এমিল আহমেদ সোবহান বলেন, বসুন্ধরা সুপার গলফের লক্ষ্য ঢাকার বিনোদনের জগৎকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা। তাঁর ভাষায়, দুই শতাধিক কর্মী ও দীর্ঘ সময়ের পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবে রূপ পেয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বসুন্ধরা সুপার গলফ ঢাকার বিনোদনজগতে নতুন এক পরিবর্তনের সূচনা করছে।’
অন্যদিকে আহমেদ ইব্রাহিম সোবহান বলেন, বসুন্ধরা সুপার গলফ শুধু একটি গলফ ভেন্যু নয়, বরং বিনোদন, খেলাধুলা ও অবসর কাটানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। আগামী ২০ বছরে বিনোদন, খেলাধুলা, অবসর বিনোদন ও পর্যটন খাতে বিনিয়োগ ও উন্নয়নের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্পোর্টস সিটি, সেন্ট্রাল পার্ক, রিভার সিটি ও সুপার গলফের পাশাপাশি কক্সবাজারে বিশ্বমানের রিসোর্ট, ক্রীড়া কমপ্লেক্স, স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি, ওয়াটার পার্ক, থিম পার্ক, সার্কাস ও নতুন সুপার গলফ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
সুপার গলফের গ্রাউন্ড ও প্রথম তলা মিলিয়ে রয়েছে ৬৮টি ডিলাক্স বে। প্রতিটি বে-তে একসঙ্গে ছয়জন খেলতে পারবেন। ফলে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলার পাশাপাশি আড্ডারও সুযোগ থাকছে।
গলফের বাইরেও রয়েছে খাবার ও বিনোদনের ব্যবস্থা। বে থেকেই খাবার অর্ডার করা যাবে। নিচতলায় রয়েছে আরবান ক্রেভ রেস্তোরাঁ। দ্বিতীয় তলায় আছে হেরিটেজ রেস্তোরাঁ, স্পোর্টস লাউঞ্জ, টেরা চায়না রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফে লিও। স্পোর্টস লাউঞ্জে রয়েছে তিনটি বিলিয়ার্ড টেবিল।
ব্যক্তিগত বা করপোরেট আয়োজনের জন্য রয়েছে ১৭টি ভিআইপি স্যুইট। প্রতিটি স্যুইটে দুটি করে বে রয়েছে। ভিআইপি অতিথিদের জন্য আলাদা চেক-ইন ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে নাইন্টিন হোল লাউঞ্জ রেস্টুরেন্ট।
গলফ খেলতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও ভেন্যু থেকেই সরবরাহ করা হবে। আগাম অনলাইন বুকিংয়ের পাশাপাশি সরাসরি এসেও রিজার্ভেশন করা যাবে।
ফলে শুধু গলফ খেলাই নয়, খাবার, আড্ডা ও পারিবারিক সময় কাটানোর সুযোগও থাকছে নতুন এই আয়োজনে। ঢাকার বিনোদন ও ক্রীড়া পরিসরে বসুন্ধরা সুপার গলফের মাধ্যমে গলফকে ঘিরে এমনই একটি সমন্বিত অভিজ্ঞতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সময়ের আলো/টিকে