চীনা গোষ্ঠীগুলোর সরবরাহ করা স্যাটেলাইট ছবি ও ভূ-স্থানিক গোয়েন্দা তথ্য ইরানের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা। তাদের মতে, এসব তথ্য ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের গতিবিধি শনাক্ত ও অনুসরণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় আরও নির্ভুল হামলা চালাতে পারছে ইরান।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন অনুযায়ী গত কয়েক মাসে ইরানের লক্ষ্য নির্ধারণ ও হামলার নির্ভুলতায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। এর পেছনে চীনা গোয়েন্দা তথ্যকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
তাদের দাবি, চীনা স্যাটেলাইটের তথ্য ব্যবহার করে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের অবস্থান ও গতিপথ পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষ করে তাপ-অনুসন্ধানী ড্রোন উৎক্ষেপণের সময় নির্ধারণে এসব তথ্য ব্যবহৃত হচ্ছে বলে দুটি সূত্র জানিয়েছে। তুলনামূলক কম উন্নত ড্রোনও এভাবে বেশি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে বলে তাঁদের ধারণা।
তবে চীনের সহায়তার প্রকৃত মাত্রা নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। বেইজিং সরকার সরাসরি এ ধরনের সহায়তার নির্দেশ দিয়েছে, নাকি বিষয়টি নীরবে চলতে দিচ্ছে, সেটিও স্পষ্ট নয়।
মার্কিন কর্মকর্তারা একই সঙ্গে ইরানের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে রাশিয়ার সামরিক সহায়তা এবং চলমান সংঘাত থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেছেন। তাঁদের মতে, চীন ও রাশিয়ার কারিগরি সহায়তায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের নির্দেশনা ব্যবস্থাতেও উন্নতি হয়েছে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা ও ইরানি কর্মকর্তাদের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও প্রকাশের আগে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর ও হোয়াইট হাউসও এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি।
সময়ের আলো/এমকে