ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট এলব্রুসের চূড়ায় পর্বতারোহী ইকরামুল হাসান শাকিল।
শনিবার রাশিয়ার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টায় এলব্রুসের চূড়ায় পা রাখেন তিনি। এদিন সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাকিল নিজেই।
তবে এই পর্বত জয় করা মোটেও সহজ ছিল না। গত ২৫ সেপ্টেম্বর ভোরে শাকিলের সামিট পুশে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সেই পরিকল্পনা বাতিল করে অভিযান পরিচালনাকারী এজেন্সি।
এর আগে টানা দুই দিনের তুষারপাতে হাঁটুসমান নরম বরফে এলব্রুস চূড়ার দিকে যাওয়ার পথ ঢেকে যায়। এরপরও শুক্রবার রাতেই চূড়ার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন শাকিল। তার সঙ্গে ছিলেন সহ-পর্বতারোহী হিদার ও গাইড অ্যালেক্স।
শাকিলদের দেখে আরও দুটি দলও সামিট পুশের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু কিছুদূর যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। হিমশীতল ঝোড়ো হাওয়া, তুষারঝড় এবং তীব্র তুষারপাতের কারণে সামনে দেখা যাচ্ছিল না ঠিকমতো। বরফের মধ্যে পা ডুবে যাচ্ছিল বারবার। পথ খুঁজে পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে আবহাওয়া আরও খারাপ হওয়ায় দুটি দলই ফিরে যায়। কিন্তু শাকিল, হিদার ও অ্যালেক্স এগিয়ে যেতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত তিনজন একসঙ্গে মাউন্ট এলব্রুসের চূড়ায় পৌঁছান। এলব্রুস শিখরে পৌঁছে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা ওড়ান শাকিল।
ইউরোপের সর্বোচ্চ চূড়া জয় করে শাকিল বলেন, ২৫ তারিখের পূর্বাভাসে আবহাওয়া কিছুটা শান্ত হওয়ার আভাস ছিল। কিন্তু এলব্রুসে আরোহনের ক্ষেত্রে পূর্বাভাস কমই কাজে লাগে। এলব্রুসের বিরূপ আচরণেও তারা ফিরে আসেননি।
তিনি বলেন, পাহাড় কখনো কখনো মানুষের শক্তি মাপে না। সবকিছু যখন ফিরতে বলে, তখনো সে কতদূর যেতে রাজি, সেটাই মাপে। আর এই প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও এলব্রুস চূড়ায় দেশের পতাকা ওড়াতে পেরে গর্বিত।
অভিযানটির আয়োজন করেছিল রাশিয়ান হাউজ ইন ঢাকা এবং বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব। অভিযানের পৃষ্ঠপোষকতায় টার্কিশ এয়ারলাইনস, জ্যাপ, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন এবং আলিয়া শিপিং লিমিটেড।
এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর ‘বাংলাদেশ-রাশিয়া ফ্রেন্ডশিপ অভিযান’ উপলক্ষে ঢাকার রাশিয়ান হাউসে শাকিলের হাতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তিনি। শিগগিরই মস্কো হয়ে বাংলাদেশে ফিরবেন এই পর্বতারোহী।
সময়ের আলো/টিকে