পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও নিয়োগ পেলেন মহিলা লীগ নেত্রী

সময়ের আলো ডেস্ক

সারাদেশ

খুলনার কয়রা উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য-সংগ্রহকারী পদে আবেদন যাচাই-বাছাইয়ে বয়স বেশি হওয়ায় বাদ পড়ার পরও পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগ পেয়েছেন

2026-09-27T22:20:43+00:00
2026-09-27T22:20:43+00:00
 
  সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
ফ্যামিলি কার্ড শুমারি
পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও নিয়োগ পেলেন মহিলা লীগ নেত্রী
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২০ পিএম 
প্রতীকী ছবি
খুলনার কয়রা উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য-সংগ্রহকারী পদে আবেদন যাচাই-বাছাইয়ে বয়স বেশি হওয়ায় বাদ পড়ার পরও পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগ পেয়েছেন ইউনিয়ন মহিলা লীগ নেত্রী শাহনাজ পারভীন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে তার নাম হাতে লিখে যুক্ত করা হয়।

জানা গেছে, শাহনাজ পারভীন উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের দাউদ মল্লিকের মেয়ে এবং তিনি ইউনিয়ন মহিলা লীগের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর কয়রার সাতটি ইউনিয়নের ফ্যামিলি কার্ড শুমারির জনবল নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এর পরই স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে উপজেলাজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়।

নিয়োগ কমিটির তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে ৮১ জন তথ্য-সংগ্রহকারী ও ৮ জন সুপারভাইজার পদে ৯৪৯ জন আবেদন করেন। গত ৩০ জুলাই যাচাই-বাছাইয়ে ৩৫৬ জনের আবেদন বাতিল করা হয়। এরপর ২ আগস্ট ও পরবর্তী দুই দিন ধরে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। দীর্ঘ দেড় মাস পর গত ১৪ সেপ্টেম্বর কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরে ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের ১১ জনের তালিকার শেষে শাহনাজ পারভীনের নাম হাতে লিখে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ফেরদাউস জানান, ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী শাহনাজের বয়স ৪২ বছর (যা আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৪০ বছরের বেশি)। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে নানা সুবিধা ভোগ করেছেন।

ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান অভিযোগ করেন, ইউনিয়নের এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতার সুপারিশেই পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও চাকরি পেয়েছেন এই মহিলা লীগ নেত্রী।


জিয়াউল হক নামে এক চাকরিপ্রার্থী জানান, পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তিনি নিয়োগ পাননি। পরীক্ষার্থীরা গভীর রাত পর্যন্ত ভোগান্তির শিকার হলেও অনেকে পরীক্ষা না দিয়েই নিয়োগ পেয়েছেন, এমনকি নিয়োগ কমিটির অনেকের আত্মীয়-স্বজনও সুযোগ পেয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিয়োগ কমিটির এক সদস্য জানান, বয়স বেশি থাকায় যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়ায় ওই নারী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। কিন্তু চূড়ান্ত ফলাফলে তার নাম দেখে তারা বিস্মিত হয়েছেন।

নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, শুরুতেই ওই নারীকে নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। পরবর্তীতে একজন প্রভাবশালী নেতার সুপারিশে তিনি নিয়োগ পেয়েছেন। এর বেশি কিছু বলতে চাই না, বিষয়টি নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় আছি।

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী জানান, যথাযথ প্রক্রিয়া শেষ করেই ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এরপরও কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতির অভিযোগ পেলে তা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সময়ের আলো/আতা
  বিষয়:   ফ্যামিলি কার্ড  শুমারি  মহিলা লীগ  নেত্রী  সময়ের আলো  খুলনা  কয়রা 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: