উপাচার্য ইস্যুতে চলমান আন্দোলনের সপ্তম দিন সোমবারও অচল ছিল চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। প্রত্যাহার করা উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন বন্ধের কোন উদ্যোগ নেই। শিক্ষার্থীরা দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যেতে অনড়। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত ভিসি অনলাইনে যোগদান করার পর এখনো স্বশরীরে ক্যাম্পাসে আসতে পারেননি। নতুন উপাচার্যের আগমন ঠেকাতে চুয়েটের প্রধান ফটকে পাহারা অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) আন্দোলনের সপ্তম দিনে সকাল ৮টা থেকে ক্যাম্পাসের মূল ফটক বন্ধ করে শাটডাউন কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল ৯টা থেকে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি চুয়েট শিক্ষক সমিতি সোমবার দ্বিতীয় দিনের মত সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করে। সোমবার সকালে শিক্ষকরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের দাবি মানতে গড়িমসি করার কারণে শিক্ষার ধারাবাহিকতা বিঘ্নিত হচ্ছে। সরকার পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এগিয়ে আসছে না। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চলমান শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। আমরা মনে করি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টির সুরাহা করতে উদ্যোগ নেবেন।
সোমবার প্রত্যাহার করা উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে নিয়ে গ্রাফিতি অঙ্কন করেন শিক্ষার্থীরা। এসময় ‘শ্বেত শাড়িতে অধ্যাপক সায়েমের ৫৬ দিনের কর্মযজ্ঞ’ শিরোনামের এই গ্রাফিতিতে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়।
ছড়িয়ে পড়া অডিও নিয়ে বিতর্ক
চুয়েটের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের আগমন ঠেকাতে গোপন পরিকল্পনার করার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক সমিতির একটি অংশের বিরুদ্ধে। যেখানে শিক্ষার্থীদের দিয়ে আন্দোলনকে চাঙ্গা রাখতে হল ফাঁকা করা, শিক্ষার্থীদের সামনে রেখে সড়ক অবরোধ করাসহ সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে নানা পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া গেছে। গেল ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে চুয়েটের জামায়াত ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত শিক্ষকরা অনলাইন যোগাযোগ ও ভিডিও কনফারেন্সিং প্ল্যাটফর্ম জুম সভায় অংশ নিয়ে এই পরিকল্পনা করার অভিযোগ আছে।
তবে ছড়িয়ে পড়া অডিও নিয়ে সোমবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। এতে বলা হয়, শিক্ষক সমিতি নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসাবে ২৬ সেপ্টেম্বর অনলাইন প্লাটফরমে আড়াই ঘণ্টা মিটিং করেছে। আর এই মিটিংয়ের অডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমসহ সংবাদ মাধ্যমে। এতে সৃষ্টি হয়েছে বিভ্রান্তি। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উসকানি দেয়ার কথা বলা হয়েছে যা সত্য নয়।
গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। ২১ সেপ্টেম্বর তাকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য করা হয়। ৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে তারা শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ২২ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে ক্যাম্পাসের মূল ফটক বন্ধ করে শাটডাউন ও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি শুরু হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর বিকালে অনলাইনে উপাচার্য পদে যোগ দেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তবে এখনো তিনি চুয়েটে আসতে পারেননি।
সময়ের আলো/এনএন