কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে শামীম মিয়া (২৫) নামের এক মসজিদের ইমামের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার চরঝাকালিয়া গ্রামে মসজিদের একটি কক্ষ থেকে এই লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে একই কক্ষে তার বন্ধু সোহানকে (২৪) রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
নিহত শামীম মিয়া উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চরঝাকালিয়া গ্রামের ফরিদ মিয়ার ছেলে এবং আহত সোহান একই গ্রামের মৃত ছাইদু মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মসজিদের একটি কক্ষে ওই মসজিদের ইমাম মো. শামীম ও সোহান একসঙ্গে থাকতেন। রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে দুই বন্ধুর মধ্যে ধস্তাধস্তি ও হট্টগোলের শব্দে আশপাশের লোকজনের ঘুম ভেঙে যায়। এ সময় তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সোহানকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার গলা ও শরীরে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় সোহানকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সোমবার ভোরে শামীমের বাবা ফরিদ মিয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে মসজিদ সংলগ্ন কক্ষে ছেলেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত শামীমের বাবা ফরিদ মিয়া বলেন, শামীম এলাকায় কখনো কারও সঙ্গে ঝগড়া করেনি। সবাই তাকে ভালো ছেলে হিসেবে জানেন। সে আত্মহত্যা করেছে, তা আমি বিশ্বাস করি না। এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। আমি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ বের করার দাবি জানাচ্ছি।
কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থলের আলামত দেখে শামীমের মৃত্যুর ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আহত সোহানের জবানবন্দি পাওয়া গেলে ঘটনা সম্পর্কে আরও তথ্য জানা যেতে পারে। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সময়ের আলো/আতা