গাইবান্ধা সদর থানার সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলার প্রধান আসামি জাহাঙ্গীর হাসানকে (৩৬) ঢাকার উত্তরা থেকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। এক নারীর গোসলের গোপন ভিডিও বা ছবি মোবাইলে ধারণ করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া এবং এর জেরে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই মামলা হয়েছিল।
গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে উত্তরা সরকারি অফিসার্স কোয়ার্টারের ১ নম্বর গেটের সামনে থেকে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। জাহাঙ্গীর গাইবান্ধা সদর উপজেলার গিদারী ইউনিয়নের বাগুড়িয়া গ্রামের মোখলেছুর রহমানের ছেলে।
গাইবান্ধা সদর থানায় দায়ের করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী মো. সাইফুল আলম (৫২) বাদী হয়ে মামলাটি করেন। অভিযোগে বলা হয়, আসামি জাহাঙ্গীর গোপনে ওই নারীর গোসলের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ও তার স্বামী ছবিগুলো মুছে ফেলার অনুরোধ করলে আসামি তা অস্বীকার করেন। উল্টো ভুক্তভোগীর ছবির সঙ্গে বাদীর ছবি বিকৃতভাবে জোড়া লাগিয়ে ফেসবুকে প্রকাশের হুমকি দেন। গত ৩ জুলাই দুপুরে ফোন করে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে আরও অশ্লীল ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় গত ৯ জুলাই সাইবার সুরক্ষা আইনে গাইবান্ধা সদর থানায় ১৮ নম্বর মামলা করা হয়।
মামলার পর থেকে আসামিকে গ্রেফতারে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এসআরবি-১৩ (গাইবান্ধা ক্যাম্প) ও এসআরবি-১ (উত্তরা, ঢাকা)-এর একটি যৌথ দল অভিযান চালায়।
ঢাকার উত্তরা পূর্ব থানার আওতাধীন সেক্টর-৮ এলাকার উত্তরা সরকারি অফিসার্স কোয়ার্টারের সামনে থেকে জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এসআরবির সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, সাইবার অপরাধ ও পর্নোগ্রাফির মতো অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সময়ের আলো/জোই