সমাজে চলার জন্য প্রয়োজন একতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা। সমাজ ব্যতীত মানুষ বসবাস করতে পারে না। মানুষ একে অপরের মুখাপেক্ষী।
আর ধনী-গরিব মিলিয়েই মূলত একটি সমাজ। তাই বিভিন্ন সময়ে অসহায় দরিদ্রদের জন্য সহায়তার হাত বাড়ানো ধনী লোকদের নৈতিক দায়িত্ব। শুধু দায়িত্ব নয়, বরং এটা প্রশংসনীয় কাজও বটে। অসহায় দরিদ্র বলতে এখানে বিশেষ করে তারা, যারা পথেঘাটে বসবাস করে। খোলা আকাশের নিচে ঘুমায়। অনাহারে-বস্ত্রাভাবে দিনাতিপাত করে।
তাদের এক বেলা খাদ্য সরবরাহ করা, ভালো পোশাকের ব্যবস্থা করা মানবিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। তাই যারা সামর্থ্যবান তাদের কর্তব্য হলো অসহায় দরিদ্রদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসা। তাদের দুঃখ-কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করা।
নিঃসন্দেহে এটা একটা মহৎ সওয়াবের কাজ। এর জন্য আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই পুরস্কৃত করবেন। ভালো এবং কল্যাণকর কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করার প্রতি নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তায়লা বলেন, ‘তোমরা সৎ কাজ ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অন্যকে সহযোগিতা করবে। গুনাহ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অন্যকে সহযোগিতা করবে না’ (সুরা মায়েদাহ : ২)।
এ আয়াত থেকে স্পষ্ট বুঝে আসে যে, ভালো ও কল্যাণকর কাজে সহযোগিতা করা একটি প্রশংসনীয় কাজ। তাই এমন কাজে পিছিয়ে থাকা নিছক বোকামি ছাড়া কিছু না।
অনেক সময় দেখা যায়, অসহায় দরিদ্রদের সহযোগিতা করার মতো নিজের সামর্থ্য নেই। তবে সে অন্যের মাধ্যমে সহযোগিতা করতে পারে। নিঃসন্দেহে এটাও সওয়াবের কাজ। এ জন্য সেও তার মতোই সওয়াব পাবে। এ সম্পর্কে একটি হাদিস এখানে উল্লেখ করছি। হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, নবী (সা.)-এর কাছে এক লোক এসে তার নিজের জন্য একটি বাহন চাইল।
কিন্তু তাকে তিনি দেওয়ার মতো কোনো বাহন না পেয়ে তাকে অন্য এক লোকের নিকট পাঠিয়ে দিলেন। সেই ব্যক্তি তাকে একটি বাহন দিল। এ ঘটনাটি তিনি নবী (সা.)-এর কাছে এসে বললে তিনি বলেন, সৎকাজের পথপ্রদর্শক ওই কাজ সম্পাদনকারীর সমতুল্য। (তিরমিজি : ২৬৭০)। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, নবী (সা.) ইরশাদ করেন, যে লোক কোনো সৎকাজের পথ দেখায় তার জন্য উক্ত কাজ সম্পাদনকারীর সমপরিমাণ সওয়াব রয়েছে।
এ হাদিস থেকে স্পষ্ট হয় যে, নিজে ভালো কাজ করা এবং ভালো কাজে সহযোগিতা করা একটি পুণ্যের কাজ। তাই আসুন নিজে সৎকাজ করি। নিজে না পারলে অন্তত সৎকাজের উসিলা বা মাধ্যম হই।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকার এবং সৎকাজে একে অপরকে সহযোগিতা করার তওফিক দান করুন।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও/এমকে