বিমানবন্দরের দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ করায় একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা, দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জামায়াতে ইসলামীর জনসচেতনতা সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আখতারুজ্জামান এখন শুধু জামায়াতে ইসলামীর নেতা নন; তিনি দেশের ভুক্তভোগী ও নির্যাতিত মানুষের নেতা হয়ে উঠেছেন। তার গ্রেফতারের ঘটনাকে নিন্দনীয় ও প্রতিবাদের বিষয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিমানবন্দরের সাম্প্রতিক ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমির বলেন, ওমরাহ শেষে দেশে ফেরার পর লাগেজ পেতে আখতারুজ্জামানকে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। তার সঙ্গে থাকা জমজমের পানির কনটেইনার নিয়ে প্রথমে বলা হয়, সেটি মদিনায় রয়ে গেছে এবং আপলোড করা হয়নি। পরে জানানো হয়, কনটেইনার বিমানবন্দরে এলেও ভুলক্রমে বেল্টে দেওয়া হয়নি। এরপর তাদের হাতে অন্যদের পরিত্যক্ত কিছু জমজমের পানি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান প্রশ্ন তুলে বলেন, আখতারুজ্জামানের মতো একজন পরিচিত নাগরিকের সঙ্গে যদি এমন আচরণ করা হয়, তাহলে সাধারণ যাত্রীদের কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, সেটিও বিবেচনা করা প্রয়োজন। একই সময়ে জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যরাও বিমানবন্দরে এসেছিলেন এবং তাদের সঙ্গেও অশোভন আচরণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে করা মামলাকে ‘মিথ্যা মামলা’ দাবি করে জামায়াত আমির বলেন, মামলায় একজনকে শারীরিকভাবে নাজেহাল করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে আখতারুজ্জামান কারও গায়ে হাত তোলেননি বলে দাবি করেন তিনি।
বিমানবন্দর সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকার কথা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আদালতে আইনজীবী আখতারুজ্জামান কাকে মেরেছেন, তার প্রমাণ দেখাতে বলেছেন। তখন সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোনো ক্যামেরা ছিল না বলে জানানো হয়েছে।
আখতারুজ্জামানকে হাতকড়া পরানো, মাথায় হেলমেট ও বুকে জ্যাকেট পরানোর ঘটনাকেও অপমানজনক উল্লেখ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট নাগরিকের সঙ্গে এমন আচরণের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
মামলা হওয়ার পর আখতারুজ্জামানের সঙ্গে ফোনে কথা বলার কথা জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগাম জামিন নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে আখতারুজ্জামান তাকে জানিয়েছিলেন, তিনি কোনো অন্যায় করেননি। তিনি আত্মসমর্পণ করবেন না; বরং তাকে গ্রেফতার করা হোক এবং প্রতিবাদের কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে—এটি দেশের ১৮ কোটি মানুষ দেখুক।
আখতারুজ্জামানের দৃঢ়তার প্রশংসা করে জামায়াত আমির বলেন, মহান আল্লাহ যেন তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। একই সঙ্গে মানুষ হিসেবে কেউ ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের বা আখতারুজ্জামানের কোনো ভুল-ত্রুটি থাকলে আল্লাহ যেন তা ক্ষমা করেন।
সরকারকে সতর্ক করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি দেশবাসী হালকাভাবে নেবে না। যারা প্রবাসীদের পক্ষে কথা বলেছেন, তারাও বিষয়টি হালকাভাবে নেবেন না।
সময়ের আলো/জেডি