নাটোরের বড়াইগ্রামে নিখোঁজের ৫ দিন পর পাশের বাড়ির নির্মাণাধীন টয়লেট থেকে শফিকুল ইসলাম খাঁ ওরফে শফিক (৩৬) নামে যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার বনপাড়া পৌর শহরের কালিকাপুর খাসপাড়া এলাকার ডিশ ব্যবসায়ী মামুন শেখের নির্মাণাধীন বাড়ির নির্মাণাধীন টয়লেট থেকে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শফিক ওই এলাকার মৃত শহীদুল ইসলামের ছেলে। স্থানীয় ও স্বজনেরা জানান, মাদকদ্রব্য কেনা-বেচা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে প্রতিপক্ষরা তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে পাশের বাড়ি ডিশ ব্যবসায়ী মামুন শেখের বাড়ির নির্মাণাধীন টয়লেটের ভিতর ফেলে রাখতে পারেন।
নিহত শফিকের বড় ভাই জাকির খাঁ জানান, গত বৃহস্পতিবার সকালে হেরোইন কেনা-বেচা নিয়ে দ্বন্দে শফিককে খুঁজতে শফিকের বাড়ি আসে একই এলাকার পিচ্চি শাজাহানের ছেলে মাদকব্যবসায়ী সোহেল, সোহেলের মা সাজেদা বেগম সাজু, খালা ও এলাকার চিহ্নিত মাদক সম্রাজ্ঞী মাজেদা বেগম মাজু, সোহেলের বোন সুমী খাতুন ও সোহেলের ছেলে সোহাগ। এসময় শফিককে না পেয়ে তারা শফিকের মা জাহেরা বেগমকে মারধর করে। এরপর থেকে শফিককে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
নিহত শফিকের চাচী মেহেরুন্নেছা জানান, তার ভাতিজা শফিকের মোবাইল ফোনটি অপর মাদকব্যবসায়ী রাকিবের কাছে পাওয়া যায়। তিনি আরও জানান, শফিকের মুখমণ্ডল ও বুকের অংশ পুড়ে যাওয়ার মতো ঝলসানো ছিল। টয়লেটের মধ্যে খালি গায়ে উপুড় হয়ে মরদেহ পড়ে ছিলো, পড়নে ছিলো ফুলপ্যান্ট। পায়ের জুতো খোলা অবস্থায় ছিলো। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে মারধর করে জোরপূর্বক বিষাক্ত কোনো পদার্থ খাইয়ে এবং শ্বাসরোধে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষরা। তিনি এটাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।
নিহত শফিকের মা জাহেরা বেগম জানান, ‘আমার ছেলেকে নির্মমভাবে মেরে ফেলেছে সোহেলেরা, তার মা ও খালারা। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।
শফিকের বড় ভাই জাকির খাঁ জানান, শিগগির বাদী হয়ে এ ব্যাপারে হত্যা মামলা দায়ের করা হবে।
বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে জানা যাবে মৃত্যুর কারণ। এরপর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/এনএন