প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেছেন, শ্রমিকের অধিকার রক্ষা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে সরকার মালিক-শ্রমিকের মধ্যে কার্যকর সামাজিক সংলাপ ও অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন (আইটিইউসি) ও ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব এমপ্লয়ার্সের (আইওই) উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে ন্যায্য ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি, মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং মানসম্মত কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। একই সঙ্গে শ্রমশক্তির দক্ষতা উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই বাংলাদেশ শ্রম আইন যুগোপযোগী করে সংশোধন করা হয়েছে। শ্রম অধিকার ও সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে বাংলাদেশ সম্প্রতি আইএলওর ১৫৫, ১৮৭ ও ১৮৯ নম্বর কনভেনশন অনুমোদন করেছে। শ্রম প্রশাসনকে আরও দক্ষ করা এবং শ্রম বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তিতেও সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, দ্রুত বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা প্রণয়ন করে সংশোধিত শ্রম আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এর মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের জীবনে সরকারের অঙ্গীকারের বাস্তব প্রতিফলন ঘটানো হবে।
বৈঠকে ইপিজেডের অর্থনৈতিক ভূমিকা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এর স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখতে আইন ও নীতিমালা বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা হয়।
সফররত প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের সাম্প্রতিক শ্রম সংস্কারের প্রশংসা করে। বিশেষ করে শ্রম আইন সংশোধন, ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন সহজ করা, কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা এবং ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতকরণে সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন তারা।
বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/কেএইচও