সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও এর ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড (ওসিওয়াই) পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব যাচ্ছে দুবাইভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে। বন্দর শ্রমিকদের বিরোধিতার মধ্যেই আজ বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় ঢাকার ইনভেস্ট বাংলাদেশ অডিটরিয়ামে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে ১৫ বছরের কনসেশন ইজারা চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ ও ইউএই সরকারের ইস্যু করা আমন্ত্রণপত্রে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানে ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এসা কাজিম উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এই চুক্তির মাধ্যমে বন্দরের সবচেয়ে ব্যস্ত কনটেইনার টার্মিনাল এনসিটিতে আন্তর্জাতিক অপারেটর আনার ক্ষেত্রে সরকারের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় বড় অগ্রগতি হবে। তবে এ উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন বন্দর শ্রমিক ও অন্যান্য স্বার্থসংশ্লিষ্টরা। চুক্তি স্বাক্ষর হলে বন্দর কার্যক্রম এবং কুতুবদিয়া বহির্নোঙর পর্যন্ত জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তারা।
গত সোমবার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন এ হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি কোনো চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেন, তবে চট্টগ্রাম বন্দর তাৎক্ষণিক বন্ধ করে দেওয়া হবে। শুধু বন্দরই নয়, কুতুবদিয়া বহির্নোঙর পর্যন্ত কার্যক্রমও বন্ধ করে দেওয়া হবে।’
আন্দোলনকারীরা শুধু এনসিটি নয়, চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও জেনারেল কার্গো বার্থেও (জিসিবি) বিদেশি অপারেটরদের সম্পৃক্ততার বিরোধিতা করছেন। ইব্রাহিম খোকন বলেন, ‘শ্রমিকরা কোনো অস্থিতিশীলতা চান না; তবে চুক্তির দিকে এগোনোর আগে সরকার যেন তাদের মতামত বিবেচনা করে। আমরা কোনো অস্থিতিশীলতা চাই না। আমরা গণতান্ত্রিক সরকারকে সহযোগিতা করতে চাই। কিন্তু আপনাদের জনগণের নাড়ি বুঝতে হবে এবং তাদের মতামতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।’ চুক্তি স্বাক্ষরের আগে সরকারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার দাবিও জানিয়েছে সংগ্রাম পরিষদ।
১৫ বছরের ইজারা অনুমোদন
গত ১ অক্টোবর অর্থনৈতিক সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এনসিটি ও ওসিওয়াইয়ের খসড়া কনসেশন চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দেয়। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে দেওয়া এ অনুমোদনের ফলে ১৫ বছরের পিপিপি ইজারার প্রধান বাধা দূর হয়।
পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রজেক্ট প্রোফাইল অনুযায়ী এনসিটির আধুনিকীকরণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দুবাই সরকার মনোনীত ডিপি ওয়ার্ল্ডকে সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) ইজারা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ)। প্রকল্পটি ২০২৩ সালের মার্চে অর্থনৈতিক সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি থেকে প্রাথমিক নীতিগত অনুমোদন পেয়েছিল। সর্বশেষ অনুমোদনটি খসড়া কনসেশন চুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত, যার আওতায় ১৫ বছর টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে ডিপি ওয়ার্ল্ড।
সরকার ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের মধ্যে কয়েক বছর ধরে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রক্রিয়াটি গতি পেলেও খসড়া চুক্তি পর্যালোচনার জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ড অতিরিক্ত সময় চাইলে তা কিছু দিন থেমে যায়। পরে নতুন সরকার প্রক্রিয়াটি আবার চালু করে। গত মে মাসে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় পিপিপি মডেলে এনসিটির প্রস্তাবিত বেসরকারি পরিচালনার জন্য একটি মূল্যায়ন কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ দেয়। পরে সিপিএ আলোচনার জন্য ১২ সদস্যের একটি সহায়ক দল গঠন করে।
ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) এ প্রকল্পের লেনদেন উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি ডিউ ডিলিজেন্স, লেনদেন কাঠামো নির্ধারণ, প্রস্তাবের অনুরোধ (আরএফপি), কনসেশন চুক্তি প্রস্তুত এবং নির্বাচিত আন্তর্জাতিক অপারেটরের সঙ্গে আলোচনায় সহায়তা করছে।
বন্দরের প্রায় অর্ধেক কনটেইনার সামলায় এনসিটি
চট্টগ্রাম বন্দরের চারটি প্রধান কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড়। বন্দরের উপাত্ত অনুযায়ী ২০২৫ সালে মোট কনটেইনার ভলিউমের প্রায় ৪৪ শতাংশ এ টার্মিনালের মাধ্যমে হ্যান্ডেল হয়েছে। গত অর্থবছরে এনসিটির মাধ্যমে প্রায় ১৩ লাখ ৮৫ হাজার একক কনটেইনার ওঠানো-নামানো হয়েছে। ২০২৫ সালে টার্মিনালটি ১৩ লাখ ২১ হাজার টিইইউএস হ্যান্ডেল করেছে।
বর্তমানে এনসিটি পরিচালনা করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মালিকানাধীন চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড। দেশীয় ব্যবস্থাপনায় গত এক বছরে এর হ্যান্ডলিং বেড়েছে ৩৮ শতাংশ। বর্তমানে বার্ষিক প্রায় ১৩ লাখ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করে এনসিটি, যা বন্দরের মোট সক্ষমতার প্রায় ৪০ শতাংশ।
এর আগে সৌদি আরবভিত্তিক রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি) ২২ বছরের ইজারায় পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। এ ছাড়া ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালকে দীর্ঘমেয়াদি পিপিপি ইজারায় লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এনসিটি একটি চালু টার্মিনাল, যা সিপিএর নিজস্ব উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগে নির্মিত।
সরকারের যুক্তি
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, চট্টগ্রাম বন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে দক্ষ বিদেশি অপারেটর প্রয়োজন। ডিপি ওয়ার্ল্ড বিশ্বের ৭০টি দেশে ৮০টি টার্মিনাল পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটির স্মার্ট সফটওয়্যার ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে আমদানি-রফতানি ব্যয় ৩০ শতাংশ কমতে পারে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ‘ল্যান্ডলর্ড মডেল’ অনুসরণ করা হবে। অর্থাৎ জমি, জেটি ও অবকাঠামোর মালিকানা রাষ্ট্রের কাছেই থাকবে; ডিপি ওয়ার্ল্ড শুধু পরিচালনার দায়িত্ব পাবে। নিরাপত্তা ও সিসিটিভি নিয়ন্ত্রণ করবে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও দেশীয় গোয়েন্দা সংস্থা।
সরকারের হিসাবে, ডিপি ওয়ার্ল্ডের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে জাহাজের অবস্থানকাল কমবে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে একটি জাহাজ থেকে কনটেইনার নামাতে গড়ে তিন দিন লাগে। সিঙ্গাপুরে লাগে ৮ ঘণ্টা এবং কলম্বোতে ১২ ঘণ্টা। অটোমেশন ও এআইভিত্তিক সফটওয়্যারের মাধ্যমে এ সময় এক দিনে নামিয়ে আনার আশা করছে সরকার। এতে আমদানিকারকের প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জাহাজ ভাড়া সাশ্রয় হতে পারে।
এ ছাড়া বড় আন্তর্জাতিক শিপিং লাইনগুলো ডিপি ওয়ার্ল্ড পরিচালিত বন্দরে জাহাজ ভেড়াতে বেশি আগ্রহী বলে মনে করা হচ্ছে। এতে বড় জাহাজ ও মাদার ভেসেল চট্টগ্রাম বন্দরে আসার সুযোগ বাড়বে এবং ট্রান্সশিপমেন্টের জন্য সিঙ্গাপুর বা কলম্বোয় যাওয়ার প্রয়োজন কমতে পারে।
রাজস্বও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে এনসিটি থেকে বন্দর বছরে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা আয় করে। প্রস্তাবিত রাজস্ব ভাগাভাগি চুক্তি অনুযায়ী, গ্রস রাজস্বের ৩৫ শতাংশ বন্দর পাবে। হ্যান্ডলিং বাড়লে এ আয় ৫০০ কোটি টাকা ছাড়াতে পারে বলে আশা করছে পিপিপি কর্তৃপক্ষ। ডিপি ওয়ার্ল্ড নতুন আরটিজি ও সফটওয়্যারে ২০৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে বলেও জানানো হয়েছে।
বিতর্ক ও আপত্তি
এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে শ্রমিক সংগঠন ও চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম কমিটি। তাদের প্রধান প্রশ্ন, এনসিটিতে রাষ্ট্রের বড় বিনিয়োগ থাকা সত্ত্বেও কেন বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এনসিটি নির্মাণে মূল অবকাঠামোয় ৭৩৭ কোটি টাকা এবং যন্ত্রপাতিসহ মোট ২ হাজার ৭১২ কোটি টাকা সরকারি বিনিয়োগ হয়েছে।
পিপিপি কর্তৃপক্ষ বলছে, ডিপি ওয়ার্ল্ড ২০৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। তবে আন্দোলনকারীদের প্রশ্ন, টার্মিনালে প্রায় সব প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকার পর ওই অর্থ কোথায় বিনিয়োগ হবে। ২০২৩-২৪ সালে এনসিটির জন্য ছয়টি নতুন কি-গ্যান্ট্রি ক্রেনও কেনা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক সদস্য জাফর আলম বলেন, ‘এখানে ২০৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের কোনো জায়গা নেই। এটি অনেকটা লাভজনক দোকান ভাড়া দেওয়ার মতো, যেখানে দোকান, মালামাল সব আপনার, ভাড়াটিয়া শুধু বিক্রি করে লাভ নিয়ে যাবে।’
আন্দোলনকারীদের আরেকটি প্রশ্ন, চালু ও লাভজনক টার্মিনাল কেন বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়া হচ্ছে। তাদের মতে, নতুন বা নির্মাণাধীন টার্মিনালে বিদেশি বিনিয়োগ আনা হলে তা বেশি যৌক্তিক হতো।
তাদের দাবি, সিসিটি ও এনসিটি মিলিয়ে বন্দরের মোট কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের বড় অংশ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে চলে যাবে। এ অবস্থায় জাতীয় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
লাভ-ক্ষতির হিসাব
এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে গেলে দক্ষতা বাড়া, জাহাজের অবস্থানকাল কমা এবং রাজস্ব বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছে সরকার। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিপিং লাইন আকৃষ্ট হওয়া এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা বলছেন, রাষ্ট্রের ২ হাজার ৭১২ কোটি টাকা বিনিয়োগের পর চালু ও লাভজনক টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়া হলে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাদের আশঙ্কা, বিদেশি অপারেটর এলে হ্যান্ডলিং মাশুলও বাড়তে পারে। বর্তমানে প্রতি কনটেইনার হ্যান্ডলিং চার্জ ১০০ ডলার। দুবাই ও সিঙ্গাপুরে ডিপি ওয়ার্ল্ড ১৪০ থেকে ১৬০ ডলার নেয়। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, মাশুল বাড়লে পণ্যের দামও বাড়বে।
এ ছাড়া এনসিটিতে ২ হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করেন। ডিপি ওয়ার্ল্ড নিজস্ব জনবল আনলে তাদের কর্মসংস্থান কী হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শ্রমিক নেতারা। চুক্তিতে ৯০ শতাংশ দেশীয় জনবল রাখার কথা বলা হলেও তা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে তাদের শঙ্কা রয়েছে।
বৃহত্তর আন্দোলনের হুমকি
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির চুক্তি স্বাক্ষরের আগে বন্দর শ্রমিকদের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘শ্রমিকরা আশা করেছিল বর্তমান সরকার এমন একটি প্রক্রিয়া বন্ধ করবে, যা পূর্ববর্তী সরকারের আমলে শুরু হয়েছিল। আমরা যদি আপনাদের বোঝাতে পারি, তবে কোনো অবস্থাতেই চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দেবেন না। আমরা যদি বোঝাতে ব্যর্থ হই, তবে আপনারা আপনাদের মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।’
অন্যদিকে ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি ও শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের নেতা তপন দত্ত সতর্ক করে বলেন, ‘শ্রমিকদের দাবি উপেক্ষা করা হলে তা বৃহত্তর আন্দোলনের জন্ম দিতে পারে। বিক্ষোভকারীরা ইতিমধ্যে ৭ অক্টোবরের জন্য একটি মশাল মিছিল এবং ১৩ অক্টোবরের জন্য বন্দর চেয়ারম্যানকে ঘিরে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।’
চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা ও প্রশাসন) জাফর আলম বলেন, ‘এনসিটি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের যন্ত্রপাতিই বর্তমানে রয়েছে। শুধু সফটওয়্যার ও আইটি ব্যবস্থা আধুনিকায়ন এবং দক্ষ জনবল নিয়োগ দেওয়া ছাড়া এখানে নতুন কোনো বিনিয়োগের জায়গা নেই। তা হলে ২০৫ মিলিয়ন ডলার কোথায় বিনিয়োগ হবে, তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই।’
সব মিলিয়ে, সরকারের নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী আজ এনসিটি ইজারা চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা থাকলেও বন্দর শ্রমিকদের তীব্র বিরোধিতায় টার্মিনালটি আন্তর্জাতিক অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে