গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং কলম চুরির অপবাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক সহকারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর ওই শিক্ষার্থী ছাড়পত্র (টিসি) নিয়ে বিদ্যালয় ছেড়েছে।
গত সোমবার (৫ অক্টোবর) উপজেলার ফুকরা ইউনিয়নের ১৬১ নম্বর কলসি ফুকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষিকা মিতু রহমানের বিরুদ্ধে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা কৃষক মো. সাজু মোল্লা।
লিখিত অভিযোগে সাজু মোল্লা বলেন, পড়ালেখায় দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে পরীক্ষায় ফেল করানোর ভয় দেখিয়ে তার মেয়েকে তিন মাস প্রাইভেট পড়ান শিক্ষিকা মিতু রহমান। বকেয়া প্রাইভেট ফি বাবদ এক হাজার টাকা পরিশোধ করার পরও তিনি আরও ৫০০ টাকা দাবি করেন। একপর্যায়ে ওই টাকা দিতে না পারায় স্কুলের পোশাক তৈরির জন্য জমা দেওয়া ৪৭০ টাকা শিক্ষিকা নিয়ে নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে তার মেয়ে বিদ্যালয়ের অন্য এক শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়া শুরু করলে মিতু রহমান ক্ষিপ্ত হন বলেও অভিযোগ করেন সাজু মোল্লা।
তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিহিংসার কারণে তার মেয়ের বিরুদ্ধে ‘কলম চুরি’র অপবাদ দেন ওই শিক্ষিকা। একই সঙ্গে সহপাঠীদের তার সঙ্গে কথা বলতে বা মিশতে নিষেধ করেন। এমনকি শিক্ষিকা সহপাঠীদের উদ্দেশে বলেন, ‘ওর সঙ্গে তোমরা মিশলে অপবিত্র হয়ে যাবা।’
সাজু মোল্লা আরও বলেন, গত ৩০ সেপ্টেম্বর শ্রেণিকক্ষে অন্য শিক্ষার্থীদের পড়া দাগিয়ে দিলেও তার মেয়েকে পড়া দেওয়া হয়নি। পরদিন পড়া না পারার অজুহাতে তাকে শ্রেণিকক্ষে মারধর করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণে তার মেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। একপর্যায়ে পড়ালেখা ও খাওয়া-দাওয়ার প্রতিও তার অনীহা তৈরি হয়।
বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকাকে একাধিকবার জানানো হলেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন সাজু মোল্লা। তার ভাষ্য, প্রধান শিক্ষিকা নিজেও ওই শিক্ষিকার বিষয়ে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন।
সাজু মোল্লা বলেন, ‘মেয়ের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর স্কুলে গিয়ে খোঁজ নিই। মেয়ের মানসিক অবস্থার কথা চিন্তা করে গত ৫ অক্টোবর স্কুল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে তাকে অন্য স্কুলে ভর্তি করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষিকা মিতু রহমানের বিরুদ্ধে এর আগেও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ছিল। নানা বিতর্কের কারণে তাকে অন্য বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছিল বলেও জানান তারা।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিনা খাতুন বলেন, ‘আমি বিষয়টি ওই ছাত্রীর অভিভাবকের কাছ থেকে শুনেছি। আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ। আমি আসলে ঝামেলা পছন্দ করি না।’
অভিযুক্ত শিক্ষিকা মিতু রহমানের বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে কল করে সাংবাদিক পরিচয় দিলে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘আমার কর্মকর্তা কি আপনাকে তদন্তের জন্য নাম্বার দিয়েছেন? তদন্ত হবে, প্রতিবেদন আসবে।’ এরপর তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
সময়ের আলো/জোই