মিরসরাইয়ে হাসপাতালের লিফটের ভেতর সন্তান প্রসব করেছেন প্রিয়াঙ্কা রায় নামে এক নারী। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নবজাতককে এনআইসিইউতে ভর্তি করা হয়। মা ও শিশুর চিকিৎসার সব খরচ বহন করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বারইয়ারহাটে অবস্থিত বিএম হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রিয়াঙ্কা রায় লিফটে করে ওপরে ওঠার সময় হঠাৎ পড়ে যান। এরপর লিফটের মধ্যেই তার পানি ভাঙা শুরু হয়।
বিষয়টি জানতে পেরে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা দ্রুত লিফটের চারপাশ কাপড় দিয়ে ঘিরে প্রসব করানোর ব্যবস্থা করেন। সন্তান জন্মের পর নবজাতককে হাসপাতালের এনআইসিইউতে নেওয়া হয় এবং মাকে মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।
রাতে ওই নারীর সঙ্গে কোনো অভিভাবক না থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার পরিচয় ও স্বজনদের খুঁজতে শুরু করে। পরে জানা যায়, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন। খোঁজাখুঁজির পর তার স্বামী মিলন রায়ের সন্ধান পাওয়া যায়। তাদের বাড়ি মিরসরাইয়ের হিঙ্গুলী ইউনিয়নের পূর্ব হিঙ্গুলী গ্রামে।
নবজাতকের অবস্থা শঙ্কামুক্ত না হওয়ায় বৃহস্পতিবার সকালে বিএম হাসপাতালের আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সে করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ সময় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাবরিনা লিনা, মিরসরাই পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোহন দে ও জোরারগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোশাররফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
বিএম হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. ওসমান গণি ভূইয়া বলেন, বুধবার রাতে হাসপাতালে আসা ওই নারীর শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল না। আমরা উপায় না পেয়ে লিফটে কাপড় দিয়ে ঘিরে বাচ্চা প্রসব করাতে বাধ্য হয়েছি। বর্তমানে মা অনেকটা সুস্থ থাকলেও বাচ্চার শারীরিক অবস্থা শঙ্কামুক্ত না হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রোগীর সকল খরচ আমরা বহন করেছি। এমনকি আমরা খাওয়া খরচও দিয়েছি।
সময়ের আলো/এমকে