রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে আঁকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি লেপে দেওয়ার ঘটনায় এক নারীসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে গ্রাফিতিতে দেওয়া চুনকালী মুছে ফেলছেন এক রিকশাচালক—এমন একটি দৃশ্য।
জানা গেছে, শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যজিৎ রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়সহ উপমহাদেশের বিভিন্ন গুণীজনের প্রতিকৃতি আঁকা ছিল। শনিবার দুপুরে সেখানে এক নারী ও তাঁর সহযোগীরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে কালো কালি লেপে দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নারী ব্রাশ দিয়ে রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি দিচ্ছেন। এ সময় শাহবাগ থানার এক পুলিশ সদস্য তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন। পরে ওই নারী ও তাঁর সহযোগীরা হট্টগোল শুরু করলে তাঁদের আটক করে পুলিশের ভ্যানে তোলা হয়। আটকের সময় তাঁরা বিভিন্ন স্লোগান দেন।
গণমাধ্যমের সামনে ওই নারী প্রথমে দাবি করেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন এবং বলেছিলেন, ‘কাঙ্গালদের আবার কিসের শিক্ষা’। রবীন্দ্রনাথকে ‘বাংলাদেশের বিরুদ্ধে’ আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদে তিনি গ্রাফিতিতে কালি দিয়েছেন বলেও জানান।
তবে পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে নিজের বক্তব্য পরিবর্তন করেন ওই নারী। তিনি দাবি করেন, তিনি অসুস্থ এবং জ্বরে আক্রান্ত। তাঁকে কেবল একটি ‘সাধারণ প্রতিবাদ কর্মসূচির’ কথা বলে শিল্পকলা একাডেমির সামনে নিয়ে আসা হয়েছিল। রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি দিতে হবে, তা তিনি আগে থেকে জানতেন না। এ ছাড়া আটকের সময় এক পুরুষ পুলিশ সদস্য তাঁকে ধাক্কা দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে আয়াস নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশের ভ্যানে তোলার সময় ঘটনাস্থলে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
শাহবাগ থানার ডিউটি অফিসার মোহাম্মদ আব্দুল খালেক বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আয়াসসহ তিন যুবক ও এক নারীকে আটক করা হয়েছে। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তাঁদের থানায় নেওয়া হয়।
আটকদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করার বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন।
বর্তমানে আটক ব্যক্তিরা শাহবাগ থানা হেফাজতে রয়েছেন এবং পুলিশ তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে দেওয়া চুনকালী মুছে ফেলতে দেখা যায় এক রিকশাচালককে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ওই রিকশাচালকের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
সময়ের আলো/এসএকে