বৈষম্যহীন পরিবেশে বেড়ে উঠুক প্রতিটি কন্যাশিশু

ডা. মু. মাহতাব হোসাইন মাজেদ

মতামত

একটি শিশুর হাসি, স্বপ্ন ও সম্ভাবনার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে আগামী দিনের পৃথিবী। ছেলে কিংবা মেয়ে— প্রতিটি শিশুই সমান মর্যাদা, ভালোবাসা,

2026-10-11T04:14:02+00:00
2026-10-11T04:14:02+00:00
 
  রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬,
২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
মতামত
আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস
বৈষম্যহীন পরিবেশে বেড়ে উঠুক প্রতিটি কন্যাশিশু
ডা. মু. মাহতাব হোসাইন মাজেদ
প্রকাশ: রোববার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৪ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
একটি শিশুর হাসি, স্বপ্ন ও সম্ভাবনার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে আগামী দিনের পৃথিবী। ছেলে কিংবা মেয়ে— প্রতিটি শিশুই সমান মর্যাদা, ভালোবাসা, নিরাপত্তা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ পাওয়ার অধিকারী। অথচ সমাজের নানা স্তরে এখনও কন্যাশিশুকে বৈষম্য, অবহেলা, বাল্যবিয়ে, অপুষ্টি, শিক্ষাবঞ্চনা ও সহিংসতার শিকার হতে হয়। কোথাও জন্মের পর থেকেই তাকে পরিবারের বোঝা হিসেবে দেখা হয়, কোথাও তার মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না, আবার কোথাও অর্থনৈতিক সংকটের অজুহাতে তার শিক্ষাজীবন থামিয়ে দেওয়া হয়। এসব প্রতিবন্ধকতা কেবল একটি শিশুর স্বাভাবিক বিকাশকে ব্যাহত করে না; বরং পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতির পথেও বাধা সৃষ্টি করে।

প্রতি বছর ১১ অক্টোবর পালিত হয় আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস। দিবসটির উদ্দেশ্য হলো কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা, বৈষম্য দূরীকরণ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং তাদের সম্ভাবনা বিকাশের জন্য বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধি করা। ২০২৬ সালের এই দিনে আমাদের অঙ্গীকার হোক— কন্যাশিশুর জন্ম থেকে বেড়ে ওঠা পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে তার মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

কন্যাশিশুর অধিকার ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক আলোচনার বিষয়। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর ৬৬/১৭০ নম্বর প্রস্তাব গ্রহণের মাধ্যমে ১১ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ২০১২ সালের ১১ অক্টোবর প্রথমবারের মতো দিবসটি পালিত হয়। এই দিবসের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় কন্যাশিশুদের সামনে থাকা বিভিন্ন বাধা, বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, নিরাপত্তা, সমান অধিকার ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগের প্রতি।

প্রতিটি কন্যাশিশুর জন্মগত অধিকার রয়েছে নিরাপদে বেঁচে থাকা, পুষ্টিকর খাবার পাওয়া, চিকিৎসাসেবা গ্রহণ, শিক্ষা অর্জন, মতামত প্রকাশ এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী বিকশিত হওয়ার। এসব অধিকার কোনো অনুগ্রহ নয়; এগুলো তার মানবিক মর্যাদা ও স্বাভাবিক বিকাশের অপরিহার্য শর্ত।

জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদে শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ, বৈষম্যহীনতা, জীবন ও বিকাশ এবং শিশুর মতামতের প্রতি শ্রদ্ধার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। এই নীতিগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে কন্যাশিশুকে পরিবারের সিদ্ধান্তে অপ্রাসঙ্গিক মনে করা যাবে না। তার বয়স, পরিপক্বতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী মতামত শোনা এবং তাকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

কন্যাশিশুর ক্ষমতায়নের অন্যতম কার্যকর মাধ্যম শিক্ষা। শিক্ষা তাকে নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে, যুক্তিবোধ বাড়ায়, আত্মবিশ্বাস তৈরি করে এবং ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য প্রস্তুত করে। একজন শিক্ষিত মেয়ে নিজের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও জীবন সংক্রান্ত বিষয়ে সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কন্যাশিশুর জন্য মানসম্মত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ে নিরাপদ পরিবেশ, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার, বিশুদ্ধ পানি, মাসিক স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে শিক্ষা এবং হয়রানিমুক্ত যাতায়াতের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। ঝরে পড়া রোধে দরিদ্র পরিবারের সহায়তা, উপবৃত্তি এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠার অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা বাল্যবিয়ে। দারিদ্র্য, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা, প্রচলিত কুসংস্কার, যৌন হয়রানির আশঙ্কা এবং পারিবারিক সামাজিক চাপের কারণে অনেক মেয়েকে অল্প বয়সে বিয়ের মুখোমুখি হতে হয়। অথচ বাল্যবিয়ে তার শিক্ষা, শারীরিক বিকাশ, মানসিক সুস্থতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

কন্যাশিশুর সুস্থ বিকাশের জন্য জন্মের পর থেকে কৈশোর পর্যন্ত বয়সোপযোগী পুষ্টি, নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা, টিকাদান, বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ প্রয়োজন। কিন্তু কিছু পরিবারে খাদ্য বণ্টন, চিকিৎসা গ্রহণ কিংবা স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় কম গুরুত্ব পায়। এই বৈষম্য দূর করা জরুরি।

শৈশব ও কৈশোরে পুষ্টির ঘাটতি শারীরিক বৃদ্ধি, শেখার ক্ষমতা, রোগ প্রতিরোধ এবং ভবিষ্যৎ মাতৃস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কন্যাশিশুর খাদ্যতালিকায় বয়স ও প্রয়োজন অনুযায়ী শাকসবজি, ফলমূল, ডাল, ডিম, মাছ, দুধসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার রাখতে হবে।

শিশুর সুস্থতা শুধু শারীরিক স্বাস্থ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানসিক ও সামাজিক সুস্থতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের অবহেলা, ছেলেমেয়ের মধ্যে বৈষম্য, চেহারা নিয়ে কটূক্তি, অতিরিক্ত চাপ এবং অন্যের সঙ্গে তুলনা কন্যাশিশুর আত্মবিশ্বাসে আঘাত করতে পারে।

মেয়েদেরও ভুল করার, প্রশ্ন করার, নতুন কিছু শেখার এবং নিজের আগ্রহ প্রকাশের সুযোগ দিতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, বিজ্ঞানচর্চা, বই পড়া ও সৃজনশীল কাজে অংশগ্রহণের সুযোগ তাদের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সহায়তা করে।

শিশুর আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে তার ছোট ছোট অর্জনের প্রশংসা করা, নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া এবং ব্যর্থতার পর আবার চেষ্টা করতে উৎসাহিত করা জরুরি। তাকে বোঝাতে হবে, পরীক্ষার ফলাফল কিংবা প্রতিযোগিতায় সাফল্যই তার যোগ্যতার একমাত্র মাপকাঠি নয়। সততা, দায়িত্বশীলতা, সৃজনশীলতা ও মানবিকতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। বাড়ি, বিদ্যালয়, যাতায়াতের পথ কিংবা অনলাইন— কোনো স্থানেই শিশু যেন নির্যাতন, হয়রানি, শোষণ বা ভয়ভীতির শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

শারীরিক নির্যাতন, যৌন হয়রানি, মানসিক নিপীড়ন, অবমাননাকর আচরণ এবং শিশুশ্রম তার স্বাভাবিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এসব অভিজ্ঞতা শিশুর মধ্যে ভয়, আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি, উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি করতে পারে। তবে প্রতিটি শিশুর প্রতিক্রিয়া এক রকম হয় না; তাই তার অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়া জরুরি।

বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট ও ডিজিটাল প্রযুক্তি শিক্ষা, যোগাযোগ এবং সৃজনশীলতার নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। কন্যাশিশুরাও এসব সুবিধা গ্রহণ করে জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়াতে পারে। তবে অনলাইন হয়রানি, ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্যের অপব্যবহার, প্রতারণা এবং অনুপযুক্ত যোগাযোগের ঝুঁকিও রয়েছে।

তাই শিশুদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার, ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা, অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের ঝুঁকি এবং সন্দেহজনক বার্তা সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। অনলাইনে কেউ ভয় দেখালে, অপমান করলে কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের হুমকি দিলে শিশুকে বিশ্বস্ত অভিভাবক বা দায়িত্বশীল ব্যক্তির সাহায্য নিতে উৎসাহিত করতে হবে।

কন্যাশিশুর সার্বিক বিকাশে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। খেলাধুলা শারীরিক সক্ষমতা বাড়ায়, দলগত কাজ শেখায়, নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত করে এবং মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করে। ছবি আঁকা, গান, আবৃত্তি, বিতর্ক, বিজ্ঞানমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শিশুর সৃজনশীলতা ও আত্মপ্রকাশের সুযোগ তৈরি করে।

সব কন্যাশিশুর প্রয়োজন এক রকম নয়। প্রতিবন্ধী শিশু, দরিদ্র পরিবারের মেয়ে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দা, পথশিশু, বাস্তুচ্যুত শিশু এবং বিভিন্ন ধরনের সামাজিক বঞ্চনার শিকার মেয়েরা অনেক সময় একাধিক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়।

কোনো শিশুকে তার প্রতিবন্ধিতা, আর্থিক অবস্থা কিংবা সামাজিক পরিচয়ের কারণে হেয় করা যাবে না। প্রতিটি শিশুর ব্যক্তিগত সক্ষমতা ও প্রয়োজন বিবেচনা করে সহায়তা নিশ্চিত করাই প্রকৃত অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের পরিচয়।

কোনো কোনো পরিবার দুর্যোগপরবর্তী আর্থিক সংকট কিংবা নিরাপত্তাহীনতার কারণে মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে পরিবারকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়া এবং মেয়েদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনায় কন্যাশিশুর বিশেষ প্রয়োজন বিবেচনা করতে হবে। আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপদ ও পৃথক স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার, বিশুদ্ধ পানি, প্রয়োজনীয় পরিচ্ছন্নতার উপকরণ এবং শিশু সুরক্ষার ব্যবস্থা থাকা জরুরি। পাশাপাশি দুর্যোগের সময় বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেলে বিকল্প শিক্ষাব্যবস্থা চালু রাখার উদ্যোগ নিতে হবে।

কন্যাশিশুর ক্ষমতায়নের দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তি তৈরি হয় শৈশব থেকেই। মানসম্মত শিক্ষা, বিজ্ঞানচর্চা, গণিতের দক্ষতা, ভাষাজ্ঞান, যোগাযোগক্ষমতা এবং সমস্যা সমাধানের অভ্যাস ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে তাকে এগিয়ে রাখতে পারে।

মেয়েদের শুধু প্রচলিত কয়েকটি পেশার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে চিকিৎসা, প্রকৌশল, কৃষি, গবেষণা, তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যবসা, প্রশাসন, শিল্পকলা এবং অন্যান্য পেশা সম্পর্কে জানার সুযোগ দিতে হবে। পেশা নির্বাচন যেন লিঙ্গভিত্তিক ধারণা দিয়ে নির্ধারিত না হয়; বরং শিশুর আগ্রহ, যোগ্যতা ও দক্ষতাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
কন্যাশিশুর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সংবাদপত্র, টেলিভিশন, অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়েদের সাফল্য, উদ্ভাবন, নেতৃত্ব এবং সামাজিক অবদান তুলে ধরা প্রয়োজন।

কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য দূর করার প্রথম ক্ষেত্র পরিবার। জন্মের পর থেকেই ছেলে ও মেয়েকে সমান ভালোবাসা, পুষ্টি, চিকিৎসা, শিক্ষা এবং বিকাশের সুযোগ দিতে হবে। গৃহস্থালির কাজের দায়িত্ব শুধু মেয়েদের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে পরিবারের সব সদস্যের মধ্যে বয়স ও সামর্থ্য অনুযায়ী ভাগ করে দেওয়া উচিত।

মেয়েদের মতামত প্রকাশের সুযোগ দেওয়া, তাদের আগ্রহকে সম্মান করা এবং আত্মরক্ষার প্রয়োজনীয় শিক্ষা প্রদান করাও জরুরি। একই সঙ্গে ছেলেশিশুদের শেখাতে হবে— নারী ও পুরুষের সমান মর্যাদা, পারস্পরিক সম্মান এবং দায়িত্বশীল আচরণ একটি সুস্থ সমাজের ভিত্তি।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৈষম্য ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষকরা মেয়েদের নেতৃত্ব, বিজ্ঞানচর্চা, খেলাধুলা এবং সৃজনশীল কাজে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করতে পারেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, সামাজিক সংগঠন ও যুবসমাজও কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশে বিভিন্ন আইন, নীতিমালা ও সামাজিক কর্মসূচি রয়েছে। তবে আইন ও নীতির সুফল প্রত্যেক শিশুর কাছে পৌঁছে দিতে কার্যকর বাস্তবায়ন প্রয়োজন। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, শিশুশ্রম বন্ধ, জন্মনিবন্ধন, শিক্ষায় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং নির্যাতনের শিকার শিশুদের সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।

আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, একটি কন্যাশিশুর ভবিষ্যৎ শুধু তার ব্যক্তিগত বিষয় নয়; এটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত দায়িত্ব। কন্যাশিশুকে অবহেলা করে কোনো সমাজ টেকসই উন্নয়ন অর্জন করতে পারে না। তার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা মানে একটি মানবিক, দক্ষ ও বৈষম্যহীন ভবিষ্যৎ নির্মাণ করা। 

কন্যাশিশুর জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে হলে প্রথমে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। তাকে করুণা নয়, অধিকার দিতে হবে; বাধা নয়, সুযোগ দিতে হবে; নীরবতা নয়, নিজের কথা বলার সাহস জোগাতে হবে। পরিবার থেকে রাষ্ট্র পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে তার মতামত, স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে সম্মান জানাতে হবে। ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসে আমাদের প্রত্যয় হোক— কোনো কন্যাশিশু যেন দারিদ্র্য, বৈষম্য, বাল্যবিয়ে, নির্যাতন কিংবা শিক্ষাবঞ্চনার কারণে তার স্বপ্ন হারিয়ে না ফেলে। প্রতিটি মেয়ে যেন নিরাপদে বেড়ে উঠতে পারে, মানসম্মত শিক্ষা পায়, সুস্থ জীবনযাপন করে এবং নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়।

আজকের কন্যাশিশুই আগামী দিনের মা, শিক্ষক, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা, নীতিনির্ধারক ও নেতৃত্বদানকারী নাগরিক। তার বিকাশের পথ সুগম করা মানে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করা। কন্যাশিশুর সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দেওয়া, তার অধিকারকে সম্মান করা এবং বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করাই হোক আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার। প্রতিটি কন্যাশিশু বেড়ে উঠুক ভালোবাসা, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সমান সুযোগের আলোয়— এই হোক আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস ২০২৬-এর মূল প্রত্যয়।

লেখক : লেখক ও জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষক

(মতামত লেখকের নিজস্ব)

সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও
  বিষয়:   বৈষম্যহীন  বেড়ে উঠুক  পরিবেশ  কন্যাশিশু  আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: